রিকশা শ্রমিকনেতা ছিদ্দেক মিয়ার মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের শোক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি, রিকশা শ্রমিকদের জন্য নিবেদিত প্রাণ শ্রমিকদরদী প্রবীণ রিকশা শ্রমিকনেতা ছিদ্দেক মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রয়াত শ্রমিকনেতার স্মরণে শোকসভা অনুষ্টিত হয়। ইউনিয়নের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড-ওয়াপদা-সোনাপুর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪ টার সময় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শোকসভা অনুষ্টিত হয়। ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিমউদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্টিত শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সুহেল মিয়া, সহ-সভাপতি মো: গিয়াসউদ্দিন ও স্বাধীন মিয়া, উপদেষ্টা জামাল মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা সাজু আহমেদ, মোস্তফাপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জসিমউদ্দিন সেবক ও সহ-সভাপতি কাসেম মিয়া, কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান খোকন, প্রয়াত ছিদ্দেক মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন প্রয়াত ছিদ্দেক মিয়া ২০১৮ সালে মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রিকশা শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরলস ভূমিকা রেখে গেছেন। একজন প্রবীণ শ্রমিকনেতা হিসেবে তিনি সব সময় সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি একান্ত দরদী ছিল। তাঁর মৃত্যুতে রিকশা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে ক্ষতি হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রয়াত ছিদ্দেক মিয়া ৬৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির এই সময়ে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ আয়ের অনিশ্চয়তা, দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, শিল্প কারখানা বন্ধ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সর্বোপরি জনজীবনের সমস্যা-সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনসাধারণের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, মহাজন ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; কখনো বা বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালায়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রিতে প্রশাসনকে কখনও উচ্ছেদ চালাতে দেখা যায়নি। উপরন্ত বর্তমানে রিকশা শ্রমিকদের নিকট হতে প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন রকম জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা না করে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ চরম অমানবিক। বর্তমানে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা এমন কি রাজধানীতেও ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল বেড়েছে, এমনকি পা-চালিত রিকশা দেশের অনেক জেলা থেকে উঠে গেছে। বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক-জনতার দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। তাই সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ব্যতিত শ্রমিক-কৃষক-জনতার মুক্তি অর্জনের বিকল্প নেই।



মন্তব্য করুন