জুড়ীতে এলপিজি গ্যাসের সংকট, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

October 3, 2026,

আল আমিন আহমদ : জুড়ীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

শনিবার ৩ অক্টোবর জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও সরবরাহ সংকটের সুযোগে কিছু এলাকায় তা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

জুড়ীর মনতৈল গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদ বলেন, ‘আমরা দিনমজুর। গ্যাসের দাম বাড়লে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তার ওপর প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া আরও ভোগান্তির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জুড়ী ও বড়লেখা এলাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে সিলেটের বিয়ানীবাজারের মেসার্স হাছিব এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় রশিদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফ্রেশ কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৩০ টাকা দরে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া সর্বশেষ সরবরাহে পেট্রোম্যাক্স ও টোটাল ব্র্যান্ডের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৬৫০ টাকা, ডেলটা ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং অরিয়ন ১ হাজার ৭৩০ টাকা নির্ধারণ করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দাম বিইআরসির নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি।

জুড়ী উপজেলার কামিনীগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ বাজার দুটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক হাট হিসেবে পরিচিত। এসব বাজারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।

জুড়ী বাজারের ব্যবসায়ী হাসানুল করিম শাপলা বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ অনেক কম। আমরা ডিলারের কাছ থেকে যে দামে কিনি, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যোগ করে বিক্রি করি। স্থানীয় পর্যায়ে একজন ডিলার থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে তাঁর কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের সরবরাহ করা যাচ্ছে না।’

ভবানীগঞ্জ বাজারের মিতালী বীজ ঘরের ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমরা ১ হাজার ৭৬০ টাকা দরে সিলিন্ডার কিনে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।’

কলেজ রোডের আলোকিত সৌর বিদ্যুৎ গ্যাস হাউজের আব্দুল বাছিত জানান, ১ হাজার ৭৩০ টাকা দরে কিনে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। একইভাবে বড় মসজিদ রোডের জসিম ট্রেডার্স ১ হাজার ৭৩০ টাকা দরে কিনে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, ফুলতলা রোডের বিসমিল্লাহ ডিপার্টমেন্ট স্টোর ১ হাজার ৭৩০ টাকা দরে কিনে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় এবং মেসার্স আতাব এন্টারপ্রাইজ ১ হাজার ৭৩০ টাকা দরে কিনে ১ হাজার ৭৮০ টাকায় বিক্রি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এমনিতেই ক্রেতাদের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগকে তাঁরা ‘প্রপাগান্ডা’ বলে দাবি করেন। ক্রেতাদের অভিযোগ দোকানদাররা তাদের মাল পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মাল আসছে না বলে দাম বাড়তি নিচ্ছেন ভোক্তাদের দাবি, বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com