জুড়ীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মা/ম/লা

জুড়ী প্রতিনিধি : জুড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুবাই প্রবাসী মো. শামীম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম জামিল হাসান অনিক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮, ৯, ১১ ও ১২ ধারায় মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ৩, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদের সামনে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হাবিবুর রহমান জয় নামের এক আসামির নেতৃত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মী ওই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একত্রিত হয়ে মিছিলের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা ১৭ জন হলেন—বেলাগাঁও গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে দুবাই প্রবাসী মো. শামীম মোল্লা (২৫), জাঙ্গীরাই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান জয় (৩৪), পাতিলাসাঙ্গন (মাধবটিলা) গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে শাহরিয়ার মাহবুব (৩৮), ভবানীপুর গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে এ আর সাজেদ (২৮), বড়ধামাই গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদ (৬৫), একই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে, বর্তমান চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন (৪৪), বাছিরপুর গ্রামের মৃত বিনোদ পালের ছেলে, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক বিন্দু পাল (৫৪), মাধবটিলা গ্রামের আব্দুল গণি বাবুলের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান সুমন (৪০), বড়ধামাই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তজমুল আলীর ছেলে, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. আছলম উদ্দিন (৪৪), ভোগতেরা গ্রামের মৃত নানু মিয়ার ছেলে, জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফয়জুল ইসলাম ওরফে ছোট কালা (৪৬), একই গ্রামের শাহাজাহান কবিরের ছেলে, জুড়ী উপজেলা সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল (৪০), ভবানীপুর গ্রামের মৃত চেরাগ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান খোকন (৪০), পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের আনাছ উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম আশরাফ (২৪), একই গ্রামের আং গনি বাবুলের ছেলে শিপার মিয়া (৪২), নয়াগ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০), কালীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ওরফে জুয়েল রানা (৩৬) এবং ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে তারেক হাসান (৪০)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আব্দুল মালিক (পিপিএম) জানান, এ মামলায় শামীম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য করুন