মৌলভীবাজার এনডিএফ’র বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা প্রদান, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে দাসত্বমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও জ্বালানি চুক্তি, মার্কিন বিমান কোম্পানির সাথে ২৫ টি বোয়িং ক্রয় চুক্তি, ইউরোপী বিমান সংস্থা এয়ারবাসের সাথে ১০ টি বিমান ক্রয় চুক্তি, মংলা বন্দরে দুটি কন্টেইনার টার্মিনার নির্মাণ এবং বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ে সাম্রাজ্যবাদী চীনের সাথে চুক্তিসহ সকল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তিসমূহ বাতিল ও দেশকে আন্ত:সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে নেতাকর্মীরা কোর্টরোডস্থ জেলা কার্যালয় হতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনা এলাকায় পথ সভা করেন। জেলা এনডিএফ’র সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো: সোহেল আহমেদ, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন, উপদেষ্ঠা মো: জামাল মিয়া প্রমূখ।
পথসভায় বক্তারা বলেন শ্রমিক-কৃষক-মেহনিত জনগণ আজ অভাব-অনটন, সমস্যা-সংকট, ছাঁটাই, বেকারত্ব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় তীব্র সামাজিক সংকটে জর্জরিত। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি ঘটলে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের আয় বাড়েনি। এর সাথে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউরোপে, মধ্যপ্রাচ্যে তথা বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থার অচলতা, জ্বালানির-গ্যাস-বিদুত্যের সংকটে শিল্প উৎপাদন হ্রাস, সার-ডিজেল-বিদ্যুতের অভাবে কৃষি ও কৃষক বিপর্যস্ত ইত্যাদির প্রভাবে দেশের শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য, ব্যাংক তথা সংকটগ্রস্ত জাতীয় অর্থনীতির অধোগতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের ঘাড়ে। অথচ সরকার জনজীবনের সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রভূ সাম্রাজ্যবাদের সাথে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি বোয়িং বিমান ও ১০টি এয়ারবাস বিমান ক্রয় চুক্তি করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল কার্যকরী হলেও জাতীয় মজুরি বোর্ড ও জাতীয় মজুরি ঘোষণা না করা হয়নি। চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিসহ তেল-গ্যাস-জ¦ালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ভাড়া ইত্যাদির মূল্য বৃদ্ধিতে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তার উপর বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের কাজ হারানো, শহরে ব্যাটারিচালিত রিক্সা উচ্ছেদ, হকার উচ্ছেদ, বেকারত্ব বৃদ্ধি; শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি উপেক্ষা করে চলা ইত্যাদি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে চলেছে। মার্কিন পরিকল্পনায় সাম্রাজ্যবাদের দালাল স্বৈরাচারী খুনী শেখ হাসিনার পলায়ন এবং ক্ষমতার পালাবদলে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রভু মার্কিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একের পর এক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ৬ ফেব্রুয়ারি সাম্রাজ্যবাদী জাপানের সাথে চুক্তি করে; মার্কিনের সাথে গোপন এনডিএ চুক্তির ধারাবাহিকতায় ৯ ফেব্রুয়ারি এআরটি স্বাক্ষর করে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে বিএনপির নেতৃত্বে জোট সরকারকে ক্ষমতায় আনে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোট সরকার একদিকে যেমন প্রভু মার্কিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে, অন্যদিকে প্রথম বিদেশ সফরে চীনে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী চীনের স্বার্থে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর করে এসেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হওয়ায় এদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতগত সামগ্রিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিপক্ষ চীনা সাম্রাজ্যবাদ উভয়ের জন্যই এদেশ অপরিহার্য। তাই উভয়পক্ষই এদেশকে নিজেদেরকে পক্ষে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। তারই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সম্পর্কিত ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা প্রদান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারের অফিস চালু, স্টারলিংকের ইন্টারন্টে চালু, মার্কিনের সাথে দাসত্বমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ইত্যাদি তৎপরতা অগ্রসর করে চলার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ চীনা সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থেও একাধিক পদক্ষেপ অগ্রসর করে চলেছে। তাই আজ প্রয়োজন সকল প্রকার শোষণ-শাসন থেকে মুক্তি ও আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার সকল সাম্রাজ্যবাদীদের এবং তাদের দালালদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলা।



মন্তব্য করুন