অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ বড়লেখায় সেই সহকারী প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

আব্দুর রব॥ বড়লেখার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামকে অবশেষে বরখাস্ত করেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক সভাপতির সাথে অসদাচরণ, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা, প্রতিষ্ঠান বিরোধী নানা অপতৎপরতায় জড়িতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড ও দুর্নীতি নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে একাধিক রিপোর্ট ছাপা হয়।
জানা গেছে, বিগত জোট সরকারের আমলে সহকারী মৌলানা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ ভাগিয়ে নেন শিক্ষক শাহীদুল ইসলাম। ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের আগষ্ট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা কালিন নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজে প্রধান শিক্ষক হতে তিনি স্কুলকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে আর্থিক ক্ষতি সাধনসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নেন। স্কুল মার্কেটের দোকানঘরের ভাড়ার প্রায় ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ৫ হাজার টাকার অধিক টাকা হাতে রাখার নিয়ম না থাকলেও বিধি বহির্ভূতভাবে তিনি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯০ টাকা হাতে রেখে দেন। কথিত স্বত্ত্ব মামলার খরচের নামে স্কুল ফান্ড থেকে ২৭ হাজার ৫৭০ টাকা পকেটস্থ করেন। স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষককে প্রদত্ত ঋনের ১৮ হাজার টাকা আদায়ের পর স্কুল ফান্ডে জমা দেননি। ছাত্রছাত্রীর বসার ডেক্সবেঞ্চ তৈরীর জন্য স্কুল আঙিনার এবং বহিরাগতদের নিকট থেকে প্রাপ্ত লাখ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আত্মসাৎ করেন।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধের স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎসহ অনিয়ম দুর্নীতিগুলোর তদন্ত কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয়। অধিকতর তদন্তেও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় বিধিমোতাবেক কমিটি তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে। এতদ সংক্রান্ত চিটি ইতিমধ্যে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন