বড়লেখায় সোনালী ব্যাংক হঠাৎ বিদ্যুৎবিল গ্রহণ বন্ধ করায় বিপাকে ১০ সহস্রাধিক গ্রাহক

October 23, 2018,

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের দুইটি শাখা কোন ধরণের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ বন্ধ করায় শাখা অঞ্চলের ১০ সহস্রাধিক গ্রাহক পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা বিল দিতে ব্যাংক গিয়ে ফেরৎ যাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা ১০-১৫ কিলোমিটার দুরে উপজেলা সদরের পল্লীবিদ্যুৎ অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বিদ্যুৎবিল জমা দিচ্ছেন। এতে গ্রাহকরা ব্যাপক সময় ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।

জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর, নিজ বাহাদুরপুর, দাসেরবাজার ও বর্নি ইউনিয়নে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এরমধ্যে অন্তত ১০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক সোনালী ব্যাংকের শাহবাজপুর বাজার ও চান্দগ্রাম বাজারের শাখায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। গত ১৫ অক্টোবর কোন ধরণের পূর্বঘোষণা ছাড়াই এ দুই ব্যাংকের ম্যানেজার বিদ্যুৎ বিল আদায় বন্ধ করে দেন। এতে গ্রাহকরা ব্যাংকে বিল দিতে গিয়ে তা জমা দিতে না পেরে ফিরে যান। সোমবার সরেজমিনে সোনালী ব্যাংক চান্দগ্রাম বাজার শাখায় গিয়ে দেখা গেছে গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিল দিতে ব্যাংকে ভিড় করছেন। বিল দিতে আসা বকুল মালাকার, এখলাছ উদ্দিন, মাসুক উদ্দিন, আবুল হাসনাত, খলিল উদ্দিন প্রমূখ জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার পর থেকেই তারা এ ব্যাংকে বিল পরিশোধ করছেন। কিন্তু ম্যানেজার বিল নিচ্ছেন না। তিনি বলছেন এখানে বিল নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে উপজেলা সদরে গিয়ে বিল পরিশোধ করতে হবে। এতে আমাদের ১০০ টাকার মতো গাড়ি ভাড়া ও সময় ব্যয় হবে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ কর্ক্ষৃপক্ষ কিংবা সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিল গ্রহণের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি যেকোন মাধ্যমে অবহিত করলে প্রতিদিন গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে হয়রানীর শিকার হতেন না।

এব্যাপারে সোনালী ব্যাংক চান্দগ্রাম শাখার ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদ জানান, সোনালী ব্যাংকর প্রধান কার্যালয় পল্লীবিদ্যুতের বিল আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেয়ায় তিনি ১৫ অক্টোবর থেকে তা বন্ধ রেখেছেন। গ্রাহকরা বিল দিতে আসলে তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে বলছেন।

বড়লেখা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, পল্লীবিদ্যুতের সাথে সোনালী ব্যাংকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা বিল গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে। বিল পরিশোধে গ্রাহকের দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তিনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উর্ধতন পর্যায়ে জানিয়েছেন। দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com