বড়লেখায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন : কৃষক পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা

November 25, 2018,

আব্দুর রব॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এবার লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ অনুকুল আবহাওয়া ও ধানের রোগ বালাই না থাকায় ফলন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলার নিখড়ি ছড়া, ষাটমা ছড়া ও দেওছড়া খনন করায় পতিত ব্যাপক জমি প্রথম বারের মত এবার আবাদের আওতায় আসে।  এখন মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে পাকা ধান। এ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো সোনালী গালিচা। বাতাসে বইছে পাকা ধানের ম্রু ম্রু গন্ধ। এবার ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। কৃষক কৃষাণীরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অগ্রাহায়ন মাস জুড়েই চলবে ঘরে ঘরে নবান্নের উৎসব।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখায় এবার রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭৮৬০ হেক্টর। যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০০ হেক্টর বেশি। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৬ হাজার মেট্টিক টন। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়া ও উপযোগি আবহাওয়া বিরাজ করায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিনে ধানের আবাদ করা হয়। চারা রোপনের পর অনুকুল আবহাওয়া ও রোগ বালাই না থাকায় এবার রোপা আমনের ফলনও ভাল হয়েছে। গত বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও ধানে ব্যাপক চিটা থাকার কারণে ফলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন রোপা আমন ধানের ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা উৎসব আনন্দে ধান কাটছে। দাসেরবাজার এলাকায় ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষক বিপুল মালাকার জানান, গত ৩-৪ বছরের মধ্যে এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষক আলাল উদ্দিন জানান, মেঘ-বৃষ্টি ভাল হওয়ায় ধানের খুব ভাল শীষ হয়েছে। চিটা নেই বললেই চলে। গত বছর যে জমিতে ৫ মন ধান পেয়েছেন একই জমিতে এবার ৮ মনের বেশি ধান পাওয়ার আশা করছেন। স্বর্ণপদক প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক নুর উদ্দিন জানান, কামার বন্দে জলাবদ্ধতার কারণে গত ২০ বছর ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি। নিখড়ী ছড়া ও মরাছড়া খনন করায় দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় এবার এখানে রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। ফলনও অত্যন্ত ভাল হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, গত বছর বড়লেখায় ধানের উৎপাদন ছিল ৩৫ হাজার মেট্টিক টন। কৃষকদের সরকারীভাবে বীজ ও সার সরবরাহ ছাড়াও সবসময় পরামর্শ প্রদান ও আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার ফলন অত্যন্ত ভাল হয়েছে। তিনি উৎপাদন ৩৬ হাজার মেট্টিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com