কুলাউড়ায় ঐক্যফ্রন্টের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, আতংকে শতাধিক নেতাকর্মী

December 20, 2018,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে মহাজোটের প্রার্থী এম এম শাহীনের নৌকার অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের ৫জন নেতাকর্মীকে মঙ্গলবার রাতে কুলাউড়ার উত্তরবাজারস্থ আউটার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ময়নুল হক বকুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আব্দুল মুহিত বাবলু, যুগ্ম আহবায়ক ইব্রাহিম লিলেছ, ছাত্রদল নেতা আলাল আহমেদ ও তারা মিয়া। এ নিয়ে বর্তমানে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার আতংকে রয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য জয়চন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা কমর উদ্দিন আহমদ কমরুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ওইদিন রাতে আরো ৫জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় নেতাকর্মীর মধ্যে আতংকের মাত্রা বেড়ে গেছে। জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর থেকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এর নির্বাচনী প্রচারণায় কোমর বেঁধে মাঠে নামে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির দুই গগ্রুপ, অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। এরপর ১৭ ডিসেম্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতে নেতাকর্মীর বাড়িতে হানা দিতে শুরু করে থানা পুলিশ। পুলিশি অভিযানে অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রচারণা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।

উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন বলেন, মিথ্যা একটি মামলায় আমাদের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ১৭ তারিখ ঢুলিপাড়ায় নৌকার অফিসে যে ঘটনা ঘটেছে তখন আমি কুলাউড়া রেলওয়ে রিক্রিয়েশন ক্লাবে কুলাউড়া পৌর ও কলেজ ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছিলাম। তাহলে কেন এই মামলায় আমাকে আসামী করা হলো। এটা সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্ঠা ও উপজেলা বিএনপি (একাংশ) সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তারা নির্বিঘেœ প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তিনিসহ প্রত্যেক স্তরের নেতাকর্মী গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন। ইতিমধ্যে পুলিশ অনেক নেতাকর্মীকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলায় কোর্টে চালান করছে। আমরা এর বিচার জনগণের কাছে দিলাম। এমন চললে নির্বাচন সুষ্টু হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাড. আবেদ রাজা বুধবার বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের উপর যে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রতিপক্ষের আগন্তুুক ও মনমালিন্যের কারণে আমাদের হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করেছেন। মিথ্যা মামলা দায়ের করার কারণে পেনাল কোড ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা করার বাদীর বিরুদ্ধে প্রশাসন চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে। এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রতিপক্ষরা এই ঘটনা সাজিয়েছে। এমন কর্মকান্ড চললে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে বলে মনে হচ্ছে না।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামীম মূসা বলেন, স্থানীয় এক যুবলীগের করা মামলায় মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে আব্দুল মুহিত বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর বাকি ৪ আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের ধরতে পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর রোববার রাতে কুলাউড়ার উপজেলার ঢুলিপাড়া বাজারে সুলতান মনসুরের ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকরা অতর্কিতভাবে এম এম শাহীনের নৌকার অফিসে ভাঙচুর-হামলা চালিয়ে নৌকার ৫ জন কর্মী-সমর্থককে আহত করেছে। পরে ১৭ ডিসেম্বর সোমবার কাদিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য জুনেদ আহমদ জুনুর রাউৎগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামালকে প্রধান করে ৪৫জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২০।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com