সংবাদ প্রকাশের পর বড়লেখায় দলিল রেজিষ্ট্রেশনে রাজস্ব ফাঁকির ৫ লাখ টাকা আদায়

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখা সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে ভুমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদনে রাজস্ব ফাঁকির প্রায় পৌনে ৫ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। সাব-রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম ও দলিল লেখক নৃপন্দ্রে কুমার নাথের তৎপরতায় ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর দলিল গ্রহিতা খান বাবুল ফারুক রোববার ফাঁকি দেয়া টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিলেন। গত বছরের ১২ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বড়লেখায় ভুমির শ্রেণী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি’ সংক্রান্ত একটি সংবাদ ছাপা হলে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফাঁকির টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়।
জানা গেছে, বড়লেখা পৌরশহরের মহুবন্দ মৌজায় ‘বাড়ি’ শ্রেণীর প্রতি শতাংশ ভুমির সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৯ টাকা। ‘ছাড়াবাড়ি’ শ্রেণীর শতাংশের মূল্য ৫ হাজার ৫৫৬ টাকা। জনৈক তাজউদ্দিনের এ মৌজার ২৪ শতাংশ বাড়ি শ্রেণীর ভুমি প্রায় ৮০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন বড়লেখার নোয়াগাও গ্রামের খান বাবুল ফারুক উদ্দিন। সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিতে ভুমি গ্রহীতা খান বাবুল ফারুক উদ্দিন উক্ত ভুমির শ্রেণী ‘ছাড়াবাড়ি’ উল্লেখিত ভুয়া পর্চা তৈরীর পর দলিল লেখক নিপেন্দ্র কুমার নাথকে দিয়ে গত বছরের ৯ মে দলিল (দলিল নং-১৬১৫/১৮) রেজিষ্ট্রী করেন। এতে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটে।
সাব-রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম রাজস্ব ফাঁকির সমুদয় টাকা আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদনে দলিল গ্রহীতা নিজেই জড়িত ছিলেন। তিনি ভুয়া পর্চা তৈরীর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে নজরে আসায় ফাঁকি দেয়া রাজস্ব আদায়সহ এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।
দলিল লেখক নিপেন্দ্র কুমার নাথ জানান, খান বাবুল ফারুক উদ্দিন ভুমির শ্রেণী পরিবর্তন করে তাকে দিয়ে দলিলটি রেজিষ্ট্রী করেন। এজন্য প্রায় ১ বছর ধরে তার লাইসেন্স স্থগিত রয়েছে। অনেক চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে তাকে দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সমুদয় টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন