(ভিডিওসহ) শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ : দেড়শ’ বছরেও চা শ্রমিকের মজুরি দেড়শ’ টাকা হয়নি

November 17, 2019,

তোফায়েল পাপ্পু॥ দেশের চা শিল্প দেড়শ’ বছর পার করতে যাচ্ছে, কিন্তু এই দেড়শ বছরেও চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী দেড়শ’ টাকা হয়নি। উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান- সব ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা বঞ্চিত। চা বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারী স্কুল নেই, স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই, ঠিকমত খাবার পায় না, অথচ এই চা শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে দেশের চা শিল্প আজ এতদূর এগিয়ে গেছে।
শনিবার ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আয়োজনে অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে চা শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ‘কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার’-শীর্ষক সভায় জুড়ী চা ভ্যালির সহ সভাপতি ও চা নারী নেত্রী শ্রীমতি বাউরী এসব কথা বলেন।
চা শ্রমিক সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে উক্ত সভায় বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন চা ভ্যালি থেকে আসা চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা অংশ নেয়। শ্রীমতি বাউরি আরো বলেন, ‘এখনও চা বাগানগুলোতে বাবু সাহেবদের দ্বারা নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সামাজিক পরিস্থিতি আর জীবিকার তাগিদে মুখ ফুটে তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারে না’ এমন অভিযোগ করে শ্রীমতি বাউরি এর প্রতিকার চান।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক জনাব মো. মাহবুবুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  এ কে এম মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব), শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা ফোরকান আহসান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৈরিসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা রোধ এবং নারী শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হলে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীগণকে এগিয়ে আসতে হবে। আর নারীর প্রতি সহিংসতা বজায় থাকলে এটি কখনোই সম্ভব হবে না। বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব সরকার উল্লেখ করে সচিব বলেন, নারীরা এখন দেশের বড় বড় জায়গা থেকে দেশে অবদান রাখছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যেকোন ধরনের অশোভন আচরণ রোধে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com