বড়লেখায় লাইসিয়াম স্কুলের পুনর্মিলনী নিয়ে সাজ সাজ রব  ক্যাম্পাস জুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য

January 11, 2020,

আব্দুর রব॥  পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে সিলেট বিভাগের অন্যতম ভাল ফলাফল অর্জনকারী মৌলভীবাজার জেলার সেরা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়লেখা রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল এন্ড কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আগামী কাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানকে সফল করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ৩ মাস ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গিয়ে নানা কর্মতৎপরতা দেখা গেছে। ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে শহর জুড়েই চলছে প্রাণচাঞ্চল্য ও সাজ সাজ রব। অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে ইতিমধ্যে পৌরশহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধশত তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ গানের রিহার্সেল দিচ্ছে। কেউ দিচ্ছে নাচের রিহার্সেল। আবার কেউ আঁকছেন বর্ণিল রঙে আল্পনা। কেউ তৈরি করছে র‌্যালির জন্য প্ল্যাকার্ড। এভাবেই এগিয়ে চলছে ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজের রজত জয়ন্তী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

জানা গেছে, এলাকার গুনগত মানসম্মন্ন শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৯৪ সালে উপজেলা সদরের মহুবন্দ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্লে থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ১০০ শিক্ষার্থী আর ১১ জন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রমের শুরু। প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন কলিন আহমদ চৌধুরী। বিদ্যায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন আনোয়ারুল আলম চৌধুরী দাদু ভাই, ডা. নজরুল ইসলাম, কৃপেশ দেবনাথ, আব্দুল হাফিজ চৌধুরী আবু, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী লুকু, পার্থ সারথি আচার্য, জুবায়ের আহমদসহ বেশ কজন শিক্ষানুরাগী। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে অনেক সুনাম। শ্রেণি ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরোনো ক্যাম্পাসের পাশাপাশি নতুন ক্যাম্পাস তৈরি হয়েছে। একটি টিনশেডের ঘর দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন সেখানে তিন তলা ভবন হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে চার তলা ভবনের কাজ চলছে। এখন প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে বারোশ। শিক্ষক সংখ্যা ৬৩ জন ও কর্মচারী ১১ জন। এবার থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২৫ বছরের ধারাবাহিকতাকে স্মরণীয় করে রাখতে রজতজয়ন্তী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে।

রজতজয়ন্তী উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উৎসবে অংশ নেয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী নাম নিবন্ধন করেছেন। উৎসবকে রঙিন ও সফল করতে নেয়া হয়েছে সকল ধরনের প্রস্তুতি। চলছে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নাচ-গানের রিহার্সেল। কেউ র‌্যালির জন্য তৈরি করছে প্ল্যাকার্ড। বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে রং-তুলিতে আঁকা হয়েছে আল্পনা। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আল্পনা আঁকার উদ্বোধন করেন জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি সালেহ এলাহী কুটি। এসময় উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদ, স্কুলের শিক্ষানুরাগী সদস্য মো. জয়নাল আবেদীনসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর নতুন ও পুরোনো ক্যাম্পাসের সড়ক জুড়ে এই আল্পনা আঁকা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কেও আল্পনা আঁকা শুরু করেছে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফাহিম আহমদ হামিম জানান, ‘রজতজয়ন্তী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে বিকেল থেকে আল্পনা আঁকা শুরু হয়। প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে আলপনা আঁকা হচ্ছে। এতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে র‌্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাতে অনুষ্ঠান শেষ হবে আতশবাজির মধ্য দিয়ে।

উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটির ২৫ বছরের গৌরবের ইতিহাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান হবে। প্রায় ৪ হাজার মানুষের উপস্থিতি হবে, এটা আশা করছি। ক্যাম্পাসে এত মানুষের জায়গা হবে না। তাই পাশের একটি জমিতে বড় পর্দার মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করছি। বড়লেখায় রজতজয়ন্তী বা পুনর্মিলনী আগে হয়নি। আমরা এটার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাববকসহ সকল পর্যায়ের মানুষ অনুষ্ঠানকে সফল করতে সাহায্য করছেন।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com