বড়লেখায় ডিলারের বিরুদ্ধে মেয়রের স্লিপ ছাড়া চাল  বিক্রি না করার অভিযোগ

April 11, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় খোলা বাজারে চাল বিক্রির ডিলারের বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের স্লিপ ছাড়া চাল বিক্রি না করার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী দরিদ্র লোকজন।

বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন বিক্রয় কেন্দ্রে এনআইডি কার্ড নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও মেয়রের স্লিপ না থাকায় অনেকেই চাল কিনতে পারেননি।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক কোরনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপে খেটে খাওয়া মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএস কর্মসুচির আওতায় চাল বিক্রির জন্য উপজেলা খাদ্য বিভাগ তাদের নিয়োজিত ডিলার সায়ফুর রহমানকে ৩ টন চাল বরাদ্দ দেয়। তিনি ৩ স্পটে ১ টন করে ৩ দিনে দুস্থ-অসহায় মানুষের মধ্যে ৫ কেজি করে বিক্রয়ের কথা। ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে চাল বিক্রির নিয়ম রয়েছে। ওএমএস ডিলার সায়ফুর রহমান গত ৭ ও ৯ এপ্রিল বড়লেখা পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন বিক্রয় কেন্দ্রে চাল বিক্রি শুরু করেন।

পৌরসভার হাটবন্দ এলাকার সুলেমান মিয়া, জামিল আহমদ, খোকন পাল, মহুবন্দ এলাকার সুমন আহমদ, ইলাস মিয়া, উস্তার আলী, গিয়াস উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, সমর উদ্দিন প্রমুখ অভিযোগ করেন এনআইডি কার্ড নিয়ে চাল কিনতে গেলে ডিলার তাদেরকে চাল দেননি। যারা পৌরসভার মেয়র স্বাক্ষরিত স্লিপ দিচ্ছে কেবল তাদেরকেই তিনি চাল দিয়েছেন। আমরা গরীব মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে অর্ধদিন নষ্ট করেও চাল কিনতে না পারায় ফিরে গেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ডিলার সায়ফুর রহমান একটি স্পটে একদিন চাল বিক্রির কথা থাকলেও তিনি পরপর এক স্থানে ২ দিনে ৫ কেজি করে ২ টন চাল ৪০০ জনের মধ্যে বিক্রি করেন। এর অর্ধেক চালই তিনি স্লিপের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের নিকট বিক্রি করেছেন। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, কারো স্লিপে ওএমএসের চাল বিক্রির নিয়ম নেই। বৃহস্পতিবার এধরণের অভিযোগ পেয়ে সরকারী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক সুত্রধরকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তিনি তা বন্ধ করিয়েছেন। ডিলার এধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলে তার ডিলারশীপ বাতিলের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওএমএসের ডিলার সায়ফুর রহমান জানান, মেয়র মহোদয়ের অনুরোধে তিনি এক স্পটে ১ টনের স্থলে ২ টন চাল বিক্রি করেছেন। এছাড়া তিনি কয়েকজন গরীব মানুষের টাকা পরিশোধ করবেন জানিয়ে স্লিপ পাঠানোর কারণে তাদের কাছে চাল বিক্রি করেন। তবে পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার নির্দেশে মেয়রের স্লিপে চাল দেয়া বন্ধ করে দেন।

পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, তিনি পৌরসভার গরীব মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। এ দুঃসময়ে অনেকের কাছে ওএমএসের চাল কেনারও টাকা পয়সা নেই। তাই কিছু গরীব মানুষের চাল ক্রয়ের টাকা তাকেই বহন করতে হচ্ছে। ডিলারকে টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তিনি স্লিপ পাঠিয়েছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com