আমেরিকায় চিরনিদ্রায় শায়িত বড়লেখার সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম

আব্দুর রব॥ প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের দাফন বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল দুপুরে আমেরিকায় সম্পন্ন হয়েছে। আমেরিকার সময় দুপুর ১২ টায় জানাজা শেষে সেখানকার স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
গত ৪ এপ্রিল আমেরিকার এল্মহার্স্ট হাসপাতালে হার্ট্্রটাকে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৪ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দেশে থাকা সিরাজুল ইসলামের একমাত্র ছেলে আনিসুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বাবার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এজন্য আমেরিকাতেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ১৯৪৩ সালে মৌলভীবাজার বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রবীন রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম টেকাহালী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষকতা দিয়ে পেশা জীবন শুরু করেন। ষাটের দশকে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬৩-৬৪ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের থানা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম সারির একজন সংগঠকের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
১৯৭২ সালে মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালে পর পর দুইবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার-১ আসনে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান। এরপর থেকে তিনি রাজনীতিতে অনেকটা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সর্বশেষ তিনি গত ডিসেম্বর মাসে বড়লেখায় ঘুরে যান। প্রবীণ এ নেতার মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।



মন্তব্য করুন