৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার : আইনী ব্যবস্থা নিতে বড়লেখায় দুই দপ্তরের রশি টানাটানি

আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ভাটাউচি গ্রামের শুক্কুর আলীর বাড়ি থেকে পুলিশ শুক্রবার ১০ এপ্রিল রাতে ৮ বস্তা বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারী চাল উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি, মামলাও দেয়নি। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার রাত থেকে স্থানীয় পুলিশ ও খাদ্য অধিদপ্তরের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির চালের ডিলার মো. সুলেমান মিয়া ৩৩২ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে প্রত্যেকের নিকট ৩০ কেজি করে বিক্রয়ের জন্য গত ৫ এপ্রিল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে প্রায় ১০ টন চাল উত্তোলন করেন। ৯ এপ্রিল তিনি ১২৭ জনের নিকট চাল বিক্রি করেন। ভাটাউচি গ্রামের শুক্কুর আলীর বাড়িতে ডিলার সুলেমান মিয়া খাদ্যবান্ধবের সরকারী চাল মজুত করেছেন এমন খবরে গ্রামবাসী বাড়িটি ঘেরাও করে ইউএনও, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশে খবর দেন। সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্কুর আলীর ঘর থেকে ৮ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার করে। পরে জব্দ চালের বস্তাগুলো পুলিশ উপজেলা খাদ্য বিভাগে হস্তান্তর করেছে। শনিবার বিকেলে উদ্ধার সরকারী চালের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা (মামলা) নিতে পুলিশ ও খাদ্য অধিদপ্তরের মধ্যে রশি টানাটানি চলতে দেখা গেছে।
শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন জানান, ভাটাউচি গ্রামের শুক্কুর আলীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা ৮ বস্তা চাল খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা থানায় মামলা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, ইউএনও’র নির্দেশে ডিলারের স্টক রেজিস্ট্রার ও মাস্টাররোল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চালের স্টক সঠিক পাওয়ায় মামলা করার সুযোগ দেখছেন না। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। নির্দেশ পেলে এ ব্যাপারে মামলা করবেন। খাদ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশ যেহেতু চাল উদ্ধার করেছে, তারাইতো মামলা করতে পারে।



মন্তব্য করুন