করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফনে বড়লেখায় প্রস্তুত কওমী মাদ্রাসার ১৩ শিক্ষার্থী

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা এমন সন্দেহ নিয়ে কেউ যদি মারা যান তবে ওই ব্যক্তির দাফনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে। এই দলের সদস্যরাই মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে তারা কোনো পারিশ্রমিক নিবে না।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা গেছেন। এই পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে কেউ অংশ নিচ্ছে না। ফলে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফন করা হচ্ছে না। এসব কথা চিন্তা করে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের জন্য ১৩ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেছেন।
ওই স্বেচ্ছাসেবী দলে রয়েছেন- মাওলানা আবিদুর রহমান, আহমদ হুসাইন, সাইফুল রহমান, মাহবুবুর রহমান, তায়েফ আহমদ, রাশেদুল ইসলাম, উসমান গনি, নাঈমুল হাসান, এমকে নাজমুল হাসান, ওলিউর রহমান শামীম, হাসান আহমদ, হাফিজ ফাহিম আহমদ ও ইমরান আহমদ।
স্বেচ্ছাসেবী দলের সমন্বয়ক মাওলানা আবিদুর রহমান বলেন, দেশে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফন কাজে অনেকেই যেতে চাইছেন না। মৃতের স্বজনরাও কাছে যাচ্ছেন না। বিষয়টি দেখে আমাদের খারাপ লেগেছে। তাই আমরা বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় একটি দল গঠন করেছি। যদি বড়লেখার কোথাও কেউ করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনা সন্দেহে মারা যান, তবে তার লাশ আমরা ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন-কাফন করবো। এক্ষেত্রে আমরা কোনো পারিশ্রমিক দিতে হবে না। তবে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের সময় আমাদের সুরক্ষা সামগ্রী দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের উনার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কমর্কতা মো. শামীম আল ইমরান রোববার সন্ধ্যায় জানান, ইতিমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফনের জন্য ১০ জনের একটি দল প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া হিন্দু ব্যক্তির সৎকারের জন্য আলাদাও একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারপরও আমরা তাদেরকে (স্বেচ্ছাসেবী দল) যোগাযোগ করতে বলেছি। যদি প্রয়োজন পড়ে তবে তাদের সাহায্য নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন