খাদ্য বান্ধবের চাল বিক্রি ট্যাক অফিসারের দেখা নেই ডিলারের দোকানে

April 14, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় সরকারের খাদ্য বান্ধবের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির ডিলারের দোকানে চাল বিক্রয়কালে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য নিয়োজিত সরকারী কর্মকর্তার দেখা মিলেনি কোন কোন ডিলারের দোকানে। অভিযোগ রয়েছে ট্যাক অফিসারের দায়সারা দায়িত্বে অনেক ডিলার চাল বিক্রিতে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে চাল নিতে আসবে না এমন ব্যক্তি ও মৃত ব্যক্তির নামে চাল বিক্রি দেখিয়ে নিজেই চাল মজুদ করছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধবের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির জন্য উপজেলা প্রশাসন ২০ জন ডিলার নিয়োগ করে। চলিত মাসের চাল বিক্রির অনিয়ম ঠেকাতে প্রত্যেক ডিলারের দোকানে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত করা হয়।
৬ এপ্রিল থেকে এসব ডিলারের দোকানে চাল বিক্রি শুরু হয়। অভিযোগ উঠে উপজেলা প্রশাসনের নিযুক্ত তদারকি অফিসার (প্রধান শিক্ষক) ডিলারের দোকানে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় কোন কোন ডিলার চাল বিক্রিতে ব্যাপক নয়-ছয় করেন। ইতিপুর্বে বিভিন্ন বাড়ি ও জঙ্গল থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ খাদ্য বান্ধবের চাল উদ্ধার করেছে। প্রদীপ দাস নামে এক ব্যবসায়ীকে ৩২ বস্তা সরকারী চালসহ আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছে।
১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে সুজানগর ইউনিয়নের আজিমগঞ্জ বাজারে সরেজমিনে চালের ডিলার শামছুল হকের দোকানে গিয়ে চাল বিক্রি চলতে দেখা গেছে। এ ডিলারের দোকানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাক অফিসার আজিমগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহির আহমদ। চাল বিক্রয়কালে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার কথা থাকলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। একই বাজারের অপর ডিলার বিকাশ চন্দ্র দাসের দোকানেও খাদ্য বান্ধরের চাল বিক্রি চললেও দেখা মিলেনি ট্যাক অফিসার সুজানগর বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাহুল চন্দ্র দাসের। দাসের বাজার ইউনিয়নের ডিলার লোকমান আহমদের দোকানে চাল বিক্রি চললেও প্রশাসনের নিয়োজিত তদারকি কর্মকর্তা টুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত দাস বেলা ২টা পর্যন্ত সেখানে হাজির হননি। একই বাজারের অপর ডিলার রাখাল চক্রবর্তীর দোকানেও হাজির হননি ট্যাক অফিসার দাসেরবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পটল চন্দ্র দাস। ডিলাররা জানান, বিকেলে অথবা পরেরদিন এসে তারা মাস্টাররোল ও স্টক রেজিষ্ট্রারে স্বাক্ষর করে যান। অনুরোধ করলেও তারা সার্বক্ষণিক থাকেন না। ট্যাক অফিসারদের দায়সারা দায়িত্বের সুযোগে ডিলাররা সরকারী চাল বিক্রিতে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেরা চাল ক্রয় করে গোপন স্থানে মজুদ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, খাদ্য বান্ধবের চাল বিক্রির নির্ধারিত দিনে ডিলারের দোকনে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন প্রাইমারী সবকুলের প্রধান শিক্ষকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলাকারী ট্যাক অফিসারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com