বড়লেখায় কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

April 15, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় একটি কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে কলোনির একটি দোকানসহ ১০টি ঘর পুড়ে গেছে। বুধবার ভোরে পৌরসভার মহুবন্দ এলাকার ইসলাম উদ্দিনের কলোনিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে দোকানের বিভিন্ন মালামাল এবং ১০টি ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন দাবি করছেন। ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক আব্দুল হাছিবের দাবি শত্রুতার জের ধরে কেউ এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এদিকে সকালে খবর পেয়ে পৌসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলার রাহেন পারভেজ রিপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মহুবন্দ এলাকার ইসলাম উদ্দিনের কলোনিতে একটি মুদি দোকানসহ ১০টি সেমিপাকা ঘর রয়েছে। কলোনিতে মুদি দোকানি আব্দুল হাছিবসহ চারটি পরিবার বসবাস করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলোনির বাসিন্দা আব্দুল হাছিবের দোকানে হঠাৎ আগুন লাগে। আব্দুল হাছিব আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়েন। এসময় তিনি কলোনির অন্য বাসিন্দাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলেন। পরে স্থানীয় একটি মসজিদে কলোনিতে আগুন লাগার বিষয়টি মাইকিং করে জানানো হয়। কিন্তু মূহুর্তেই আগুন দোকানের পেছনে থাকা ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে জানান এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর আগেই আগুন দোকানসহ কলোনির দশটি সেমিপাকা ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দোকানের বিভিন্ন মালামাল এবং ১০টি ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন দাবি করছেন।

দোকান মালিক আব্দুল হাছিব বুধবার দুপুরে বলেন, কলোনির সামনেই আমার দোকান। এর পেছনের একটি কক্ষে আমি থাকি। রাত হঠাৎ দোকানে আগুন লাগে। বিষয়টি টের পেয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ি। দোকানের বারান্দায় এসে দেখি একটু কার্টুনে আগুন জ্বলছে। দ্রুত কলোনির বাসিন্দাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলি। পরে কাউকে না পেয়ে স্থানীয় একটি মসজদিরে ইমামকে মাইকে আগুন লাগার বিষয়টি স্থানীয়দের জানাতে বলি। মাইকে খবর পেয়ে মানুষজন আসেন। ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আমার দোকানঘরসহ কলোনির কয়েকটি ঘর পুড়ে গেছে। আমার দোকানে দুটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পূবশত্রুতার জের ধরে যে কেউ আমার দোকানে আগুন দিয়েছে। তা নাহলে এখানে আগুন লাগার কথা নয়।

কলোনির বাসিন্দা ফয়ছল মিয়া বলেন, আমি ট্রাক্টর শ্রমিক। পরিবার নিয়ে কলোনিতে থাকি। গতকাল অন্য জায়গায় ছিলাম। সকালে খবর পেয়ে এসেছি। আগুনে আমাদের সব পুড়ে গেল। এখন কোথায় থাকবো, কি খাবো।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাহেন পারভেজ রিপন বলেন, পৌরসভার মেয়রসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিভাবে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি। তবে দোকান মালিক আব্দুল হাছিব আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন শত্রুতার জের ধরে কেউ তাঁর দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ চারটি পরিবারকে পৌরসভার পক্ষ ৪০ কেজি চাল ও ৮ হাজার টাকা দিয়েছি।

বড়লেখা ফায়ার স্টেশনের অফিসার অনুপ কুমার সিংহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রত করেছি। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা চেয়েছি। তালিকা পেলেই তাদের সহায়তা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com