ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি : বোরো ভাল ফলন : বৈরি আবহাওয়ায় শঙ্কিত কৃষক

April 17, 2020,

আব্দুর রব: বড়লেখায় বোরো ধানের ভাল ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মূখে। একদিকে করোনা মহামারিতে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট ও অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ায় চাষীরা শঙ্কিত। পয়লা বৈশাখের বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু হয়। বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কায় আধাপাকা ধানগুলো আগেভাগেই কাটা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্ঠিতে রোবোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগাম বন্যার সতর্কবার্তায় যত দ্রæত সম্ভব ধান কাটার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের মাঝে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগের।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৮ হেক্টর। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ১০৭ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ধান আবাদ হয়েছে হাকালুকি হাওর পাড়ের তিন ইউনিয়ন তালিমপুর, সুজানগর ও বর্ণিতে। অন্য ৭টি ইউনিয়নেও কম-বেশি ধান আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধারা হয়েছে ২৬ হাজার ২১৫ মেট্টিক টন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বড়লেখায় কৃষক পর্যায়ে নিজস্ব লোকজন দিয়েই ধান কাটানো হয়। তাছাড়া এবার করোনাভাইরাসে অনেক দিনমজুর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্য কাজ না থাকায় এদের ধান কাটায় কাজে লাগানো যাবে। শ্রমিক সংকটের কোনো আশংকা নেই। শুধুমাত্র আবহওয়া ভালো থাকলেই ধান কেটে ঘরে তুলা সম্ভব হবে। আগামী ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয় ও আসামের বরাক অববাহিকায় ভারী (১০০ মি.মি থেকে ২৫০ মি.মি) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগ যেখানে ধান পাকছে, সেখানেই দ্রæত কৃষককে ধান কাটতে উৎসাহিত করছেন। ইতিমধ্যে কৃষক সমিতিগুলোকে ধান কাটার যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। এলাকাগুলোতে প্রচারপত্র বিলি হচ্ছে। ৮০% পরিপক্ক হলে ধান সংগ্রহের আহবান জানানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের বিকেলে ধান কাটতে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক কৃষকদের সাথে ধান কাটায় অংশ নেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার, থানা ওসি মো. ইয়াছিনুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হাওলাদার মো. আজিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান, তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্ত দাস, সাংবাদিক লিটন শরীফ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলাশ দত্ত ও সুবিনয় চন্দ্র দাস, কৃষক আব্দুল আজিজ, জয়নাল উদ্দিন, সফর উদ্দিন, সেবুল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি সুমন আহমদ প্রমুখ। উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা-খুটাউরা সিআইজি (ফসল) কৃষক সমবায় সমিতির আয়োজনে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী প্লটে স্বল্প মেয়াদী বোরোর নতুন জাতের ব্রি ধান ৮৮ ক্ষেতে এ ধান কাটা হয়।

কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কৃষিবিভাগ আমাদের সহায়তা করছে। পরামর্শ দিয়েছে। পেকে যাওয়া ধান দ্রæত কাটার আহবান জানাচ্ছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়ার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আগাম বন্যা হলে হাওরের নি¤œাঞ্চলের ধান ডুবে যেতে পারে। বন্যার আগে ধান কাটতে পারলে আমারা ভালো ধান তুলতে পারব আশা করছি।’ ইসলামপুর গ্রামের কৃষক শাহিন আহমদ জানান, ধান পাকা শুরু হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের লকডাউনের কারণে দুরের শ্রমিকরা আসতে পারছে না। ৫০০ টাকা রোজেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবল সরকার জানান, ‘এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে  বোরোর আবাদ হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের দ্রæত ধান কাটার আহবান জানাচ্ছেন, এ সংক্রান্ত প্রচারপত্রও বিলি করছেন। আগের বছরের চেয়ে এবার বোরো ধানের ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে, আশা করছেন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকুল থাকেল কৃষকরা শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারবে। যাতে ধান কাটার শ্রমিক সংকট না হয় সে ব্যাপারেও কৃষিবিভাগ ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষি শ্রমিকদের ত্রাণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য অনেকেই ধান কাটায় আগ্রহী হবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com