প্রশাসন করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হাকালুকির হাওরখাল বিল হতে রাতের আধারে চলছে মাছ লুট

May 4, 2020,

আব্দুর রব॥ হাকালুকি হাওরের প্রায় দেড় হাজার একরের গুটাউরা হাওরখাল বদ্ধ জলমহালের বাতিল ঘোষিত ইজারাদার সমিতির সভাপতি, সম্পাদকসহ তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন রাতের আধারে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছে। সরকারী মৎস্যভান্ডারের মাছ লুট বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন ৪ মে সোমবার বড়লেখা ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ভুমি মন্ত্রণালয় বিগত ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল  মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা প্রদান করে। এ ইজারা আদেশের বিরুদ্ধে সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি হাইকোর্টে মামলা (নং ১৫৬১/২০১৮) দায়ের করে। দু’দফা শুনানী শেষে গত বছরের ২০ নভেম্বর বিজ্ঞ হাইকোর্ট মন্ত্রণালয়ের ইজারা বাতিল ও দরখাস্তকারী সমিতির পক্ষে রুল এফসুলেট পার্ট করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও সরকার পক্ষে ভুমি মন্ত্রণালয় সুপ্রীম কোর্টে আপিল (নং-৯৩৬/১৯) দায়ের করে। গত ৬ জানুয়ারী দু’পক্ষের শুনানী শেষে জিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষকে জলমহালের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। কিন্ত চলমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন যখন মাঠে-ঘাটে মরিয়া হয়ে কাজ করছে এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্ট বন্ধ রয়েছে, সে সুযোগে মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যগণ ফেঞ্চুগঞ্জের কিছু ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে হাওরখাল বিলের মাছ লুট করতে থাকে। গত প্রায় দেড়মাস ধরে দিনে ও রাতের আধারে তারা কারেন্ট জাল, নেট জাল ও ফান্দা জাল দিয়ে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান জানান, হাওরখাল বিল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com