বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় তারেক রহমান, মা-মাটির টানে জনসমুদ্রের উষ্ণ আলিঙ্গনে নির্বাসনের ১৭ বছর পর মহানায়কের প্রত্যাবর্তন
মোস্তফা সালেহ লিটন : দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষা, সীমাহীন জল্পনা-কল্পনা আর লাখো কোটি মানুষের হৃদস্পন্দনকে এক সুতোয় গেঁথে অবশেষে নিজ প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ফেরা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়, এ যেন ইতিহাসের এক চরম প্রতিশোধ এবং গণতন্ত্রকামী জনতার দীর্ঘ লড়াইয়ের চূড়ান্ত সার্থকতা। ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ।
ইতিহাসের আয়নায় দীর্ঘ নির্বাসন ২০০৭ সালের সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে কতিপয় সেনাসদস্যের হাতে অমানুষিক নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। বিদেশের মাটিতে থেকেও এক মুহূর্তের জন্য বিচ্ছিন্ন হননি নিজ দেশের মাটি ও মানুষের স্বপ্ন থেকে। ১৭টি বছর তিনি নির্বাসিত থেকে যে ধৈর্য আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তার প্রতিফলন আজ বাংলাদেশের রাজপথে।
বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাসিত নেতাদের ফিরে আসার রেকর্ড খুব বেশি নয়। আর্জেন্টিনার হুয়ান ডমিঙ্গো পেরন ১৮ বছর পর ফিরেছিলেন, কম্বোডিয়ার নরোদম সিহানুক ছিলেন ২১ বছর নির্বাসিত। এমনকি মহাত্মা গান্ধীও জীবনের দীর্ঘ ২১ বছর কাটিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেইসব বিশ্বনেতাদের কাতারেই আজ উচ্চারিত হচ্ছে তারেক রহমানের নাম। তবে তার এই ফেরা অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন মাত্রার। তিনি ফিরছেন এক গণবিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে, যেখানে মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে অতল শ্রদ্ধায়। মা, মাটি ও মানুষের নেতা দলের নেতা-কর্মীদের সেই স্লোগান “মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে” আজ আর কেবল স্লোগান নয়, তা এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। দুই বছর আগেও যারা স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বিরোধী দলের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, আজ তারা নতুন ভোরের আলো দেখছেন। গত আগস্টের গণবিপ্লবের পর যখন শাসকগোষ্ঠীর তাসের ঘর ভেঙে পড়ল, বাংলাদেশের মানুষ এক মুহূর্ত দেরী করেনি তাদের আগামীর কাণ্ডারিকে খুঁজে নিতে। এক বিরল অভ্যর্থনা আজকের এই দিনে ঢাকা শহর এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গোটা দেশ আজ ঢাকার রাজপথে মিশে গেছে প্রিয় নেতাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে বরণ করে নিতে। বিশ্ব রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন জনসমুদ্রের নজির খুব কমই আছে। এই জনস্রোত প্রমাণ করে যে, দমন-পীড়ন আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জননেতার নাম মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যায় না।
প্রত্যাশা ও আগামীর পথ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান আজ বিজয়ী বীরের বেশে ফিরেছেন। জাতি তার কাছে কেবল একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের রূপরেখা চায়। যে ন্যায়বিচার আর সাম্যের জন্য তিনি দীর্ঘ লড়াই করেছেন, সেই আদর্শে দেশ পুনর্গঠিত হবে এমনটাই আজ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। হে মহানায়ক, মা ও মাটির গন্ধে সিক্ত আপনার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুভ হোক। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে শান্তিতে ও হেফাজতে রাখুন। আপনার নেতৃত্বে এই জাতি পুনরায় জেগে উঠুক এক নতুন দিগন্তের সন্ধানে।



মন্তব্য করুন