শালীনতা ও শালীন ভাষা: ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সৌন্দর্য

June 25, 2026,

বশির আহমদ : শালীনতা মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। একজন মানুষের পোশাক, আচার-আচরণ, কথাবার্তা, চলাফেরা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই তার শালীনতার পরিচয় ফুটে ওঠে। শালীনতা শুধু বাহ্যিক বিষয় নয়; এটি মানুষের চরিত্র, রুচি, শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

ইসলাম শালীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন: إِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيمَانِ

অর্থ: নিশ্চয়ই লজ্জাশীলতা (শালীনতা) ঈমানের একটি অংশ। (সহীহ বুখারী)

অন্য হাদিসে এসেছে: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

শালীন ভাষা মানুষের ব্যক্তিত্বকে মর্যাদাবান করে। ভদ্র ও মার্জিত কথাবার্তা মানুষের হৃদয় জয় করে, আর অশালীন ও কটুভাষা মানুষকে সমাজে ছোট করে দেয়। একজন শিক্ষিত মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ডিগ্রিতে নয়, বরং তার আচরণ ও কথার মধ্যে প্রকাশ পায়।

পারিবারিক শিক্ষা ও বংশীয় ঐতিহ্যও শালীনতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুশিক্ষিত ও আদর্শ পরিবার সন্তানকে ভদ্রতা, নম্রতা, সততা এবং সম্মানবোধ শেখায়। তাই সমাজে প্রায়ই বলা হয়, মানুষের ব্যবহারে তার পরিবার ও বংশের পরিচয় ফুটে ওঠে। তবে বংশের মর্যাদা তখনই মূল্যবান হয়, যখন তা উত্তম চরিত্র ও সৎকর্মের মাধ্যমে রক্ষা করা হয়।

সুশিক্ষা মানুষকে মানবিক, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল করে তোলে। পক্ষান্তরে কুশিক্ষা মানুষকে অহংকারী, অশালীন ও বেপরোয়া করে দেয়। আজকের যুগে তথ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পেলেও নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের গুরুত্ব অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষিত হয়েও অনেকে শালীনতা ও ভদ্রতার অভাব প্রদর্শন করছে। প্রকৃত শিক্ষা হলো সেই শিক্ষা, যা মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি তার চরিত্রকে সুন্দর করে এবং সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে শালীনতা চর্চার পরিবেশ তৈরি করা। কারণ শালীন আচরণ, মার্জিত ভাষা এবং উত্তম চরিত্রই একজন মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদার পরিচায়ক। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য শালীনতার বিকল্প নেই। শালীনতাই মানুষকে সম্মানিত করে, আর অশালীনতা মানুষকে সম্মান থেকে বঞ্চিত করে। তাই আসুন, আমরা শালীনতা ও শালীন ভাষার চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সভ্য ও আদর্শ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি।

লেখক: বশির আহমদ, মৌলভীবাজার সদর।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com