হাকালুকি হাওর পাড়ে ত্রাণের আশায় সময় কাটে বানভাসী মানুষের

July 2, 2017,

বিশেষ প্রতিনিধি॥ বেলাগাঁও, কন্টিনালা, রাবার ড্যাম ও পূর্ববেলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এসব জায়গায় থামে নৌকা। এসবস্থানে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে আছে। এরমধ্যে নারী পূরুষ ও শিশু রয়েছে। যদি জানতে পারে কেউ ত্রাণ নিয়ে এসেছে তাহলে সবাই হুড়মুড়ি খেয়ে এগিয়ে আসে। সবার লক্ষ্য লাইনে আগে দাঁড়ানো। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে হাকালুকি হাওরে যাবার পথে কন্টিনালা নদীর উভয় পাড়ে। এছাড়াও হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল, তেঘরিঘাট, সাদিপুর এলাকায়ও একই দৃশ্য চোখে পড়ে।

সরেজমিন হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ও জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার দিনাতিপাত করছে অনাহারে অর্ধাহারে। অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারানো মানুষ প্রায় ৪ মাস যাবত পানির সাথে লড়াই করছে। যেনতেন পানি নয় অথৈই পানি। ভয়াবহ বন্যা। বন্যার এই রূপকে মানুষ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছে না।

ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেতে হাওর পাড়ে শুক্রবার মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশেষ মোনাজাত অব্যাহত থাকবে প্রাকৃতিক এ্ই দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। শনিবার থেকে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ঈদের ছুটির পর ক্লাস শুরু হলেও হাওরপাড়ে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যায়নি। রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪-৫ ফুট পানির নিচে।

ভুকশিমইল গ্রামের কুমুদিনী বিশ^াস, নুর উদ্দিন, পাখি মিয়া, মনসুর, এমদাদ, জামাল, বিনয় ও হেকিম জানান, বাড়িঘরে ৩-৪ ফুট পানি। ঘরের চুলাও পানিতে ডুবে গেছে। তাই রান্না বান্না করতে পারছিনা। তাই অনেকটা না খেয়ে আছি। বাড়িঘরে পানি উঠায় তারা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত কোন সরকারি ত্রাণ পাইনি। ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, বেসরকারিভাবে কে কিভাবে ত্রাণ দেয় তা আমাদের কেউ জানায়, কেউ জানায় না। সরকারি ত্রাণ বলতে ৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্ধ পেয়েছি। শনিবার সেগুলো উত্তোলন করবো। এতে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে দিলে সর্বোচ্চ ৮শ পরিবারকে দেয়া যাবে। কিন্তু ভুকশিমইল ইউনিয়ন শতভাগ বন্যা কবলিত। এই ইউনিয়নের ২ হাজারেরও বেশি পরিবার রয়েছে। ফলে এই ত্রাণ চাহিদার অর্ধেকও মিটবে না।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বি জানান, প্রতিদিনই বন্যার নোট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। বন্যার জন্য বিশেষ বরাদ্ধের কথাও উল্লেখ থাকে। সরকারি বরাদ্ধ না ফেলে কিছু বলার নেই।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com