কুলাউড়ায় বন্যার ত্রাণ নিয়েও রাজনীতির অভিযোগ!

বিশেষ প্রতিনিধি॥ আমরা আওয়ামী লীগ করি। আর আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালিক বিএনপি করেন। তাই তিনি আমাদের ত্রাণ দেননা, ত্রাণ চাইতে গেলে তারা আমাদের উল্টো ধমক দেন। কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বড়দল-কাড়েরা গ্রামের ত্রাণ বঞ্চিত যগেশ দাস ও প্রনতি দাস এমন অভিযোগ করেন মেম্বারের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি মেম্বার তার পছন্দের লোকজনই কেবল পাচ্ছে ত্রাণ।
একই গ্রামের আব্দুল মালিক, তমুল আলী ও বড়দল গ্রামের সাইফুর রহমান, দুলু খা, জিবা বেগম, জামাল মিয়ারও একই অভিযোগ। গত সাড়ে ৩ মাসে তারা কোন ত্রাণ পায়নি। তাদের প্রশ্ন-সরকারের দেয়া এত ত্রাণ যায় কোথায়? তাছাড়া বেসরকারি সংস্থাও আগে তালিকা করে তাদের পছন্দের লোকজনকে ত্রাণ দেয়।
শুধু বিএনপি’র জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নয় অভিযোগ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও।
২ জুলাই কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল হাকালুকি হাওর তীরের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শণে আসেন। এরপর জয়চন্ডী ইউনিযনের পুশাইনগর বাজারে সমাবেশ করে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেখানে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। জড়ো হওয়া মানুষের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত মানুষকে ত্রাণ দেয়া হয়নি। ত্রাণ বিতরণে করা হয়েছে বৈষম্যমুলক আচরণ। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ডের লোকজনকে দেয়া হয়েছে ১৩ কেজি করে গম। আর যে ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থক কম সেখানে দেয়া হয়েছে চিড়ামুড়ি জাতীয় শুকনো খাবার।
এদিকে ৪ জুলাই মঙ্গলবার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ঘাটের বাজারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া এমপির উপস্থিতিতে কয়েকজনকে ত্রাণ দেয়ার পর বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের তালিকা অনুসারে ত্রাণ বিতরণ করা হয় বলে ত্রাণ বঞ্চিত ইউনিয়নের সাদিপুর নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন।
ভুকশিমইল ইউনিয়নের বড়দল-কাড়েরা গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্যা। আমি সবার মাঝে সমহারে ত্রাণ বণ্ঠন করছি।
এব্যাপারে ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, ত্রাণ দেয়া থেকে কোন মানুষ বাদ পড়েনি। আমার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ এমন অভিযোগ করতে পারবে না।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বী বলেন, এনিয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে



মন্তব্য করুন