মৌলভীবাজারে বিটিসিএল ইন্টারনেট সেবার মান নিম্ন : গ্রাহক ভোগান্তি চরমে

July 29, 2017,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স লিঃ (বিটিসিএল) এর ইন্টারনেট সেবায় চরম ভোগান্তি’র শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। কোন কোন গ্রাহকের মন্তব্য সরকার নিয়ন্ত্রিত তথ্য প্রযুক্তিখাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। এতে করে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সধারী আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) প্রতিষ্ঠান গুলো গ্রাহক পর্যায়ে ভাল সেবা না দিতে পেরে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। বিটিসিএল এর সেবার মান নিম্ন হওয়ার পেছনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাযোস রয়েছে কিনা, এ নিয়ে আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, বিটিসিএল একমাত্র সরকারী আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে লাইসেন্সধারী আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) কে ব্যান্ড উইথ (ইন্টারনেট) প্রভাইড করা। বিটিসিএল একমাত্র রাষ্টায়াত্ব প্রতিষ্ঠান হলেও বেসরকারী আরও বেশ কয়েকটি আইআইজি রয়েছে।
আইআইজি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল এর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ যেখানে আছে সেখান থেকেই আইএসপি প্রতিষ্ঠান গুলো ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বেসরকারী আইআইজি এর সংযোগ না থাকাতে বিটিসিএলের ইন্টারনেটই একমাত্র ভরসা। বেসরকারী আইআইজি থেকে মফস্বল শহরের আইএসপি প্রতিষ্ঠান যদি ইন্টারনেট (ব্যান্ডউইথ) কিনতে চায় তাহলে সরকার নির্ধারিত দামের দ্বিগুনেরও বেশি মূল্যে ব্যান্ডউইথ কিনতে হয়।
স্থানীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা জায়, প্রতিদিনই বিটিসিএল এর সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে ফোনে ও ই-মেইলেও সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য জানান। কিন্তু কখনই ফোনে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়া যায় না, পাশাপাশি ই-মেইলেরও কোন জবাব পাওয়া যায় না। উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে সুনির্দিষ্ট কারণ জানারও কোন সুযোগ নেই। নামে মাত্র একটি সাপোর্ট (০২-৮৩৩২২০০) নাম্বার থেকে জানানো হয় “সিলেট লাইনে সমস্যা আছে” শুধু এটুকুই । জনশ্রুতি আছে যে বেসরকারী আইআইজি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইন্টারনেট যাতে আইএসিপগুলো কিনতে বাধ্য হয় সে কারণে বিটিসিএল ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট লাইনে সমস্যা সৃষ্টি করে। আর এ কারণেই অধিকাংশ বড় আইএসপি বিটিসিএল এর ইন্টারনেটের পাশাপাশি বেসরকারী আইআইজি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অধিক মূল্যে বাধ্য হয়ে ব্যান্ডউইথ কিনছে।
অপর দিকে মৌলভীবাজারে বেসরকারী আইআইজি বিটিআরসির লাইসেন্স নেই এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছেও ব্যান্ডউইথ বিক্রি করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নিচে শুধুমাত্র চলিত জুলাই মাসের মৌলভীবাজারে ইন্টারনেট ক্ষেত্রে বিটিসিএলের সেবার নমুনা তুলে ধরা হলো-
৯ জুলাই লিংক ডাউন রাত ৯ টায়, আপ হয়- রাত সাড়ে ১১ টায়, ১০ জুলাই লিংক ডাউন সন্ধ্যা ৭ টায়, আপ রাত সাড়ে ১০ টায়, ১৬ জুলাই লিংক ডাউন রাত ২টা ১৫ মিনিটে, আপ পর দিন দুপুর ১.১৫ মিনিটে, ১৯ জুলাই বিকেল ৩ টা থেকে সারাদিনই লিংক আসা যাওয়া করা।
২৪ জুলাই ভোর থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট আসা যাওয়া করা এবং ধীর গতির (প্রায় ২৫% প্যাকেট লস) ইন্টারনেট পাওয়া যায়।
এস আহমদ কম্পিউটার্স এ- প্রিন্টার্স নামীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোঃ আব্দুস সালাম সেলিম ও মৌলভীবাজার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সাভিস (এমবিএস) ম্যানেজার আব্দুল মুমিন  জানান, ইন্টারনেট আমরা গ্রাহক পর্যায়ে পৌছে দেই। যে কোন সমস্যায় আমাদের জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিটিসিএল এর ইন্টারনেট লিংক ডাউন ও ঘন ঘন লিংক আসা যাওয়া করলেও বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়না। বিটিসিএল এর এই খামখেয়ালীপনার জন্য তারা গ্রাহকদের নিকট থেকে ঠিকমত মাসিক বিল আদায় করতে পাছেননা। প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছে বিলের টাকা অনাদায়ী থেকে যায়, যা আর কোনদিন আদায় সম্ভবপর হবে না। ইন্টারনেট লিংক ভাল না থাকার কারণে গ্রাহকদের সাথে প্রায়ই অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটে থাকে।
আইএসপি প্রতিষ্ঠান এমবিএস ম্যানেজার আব্দুল মুমিন আরো জানান, ২০১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ শুধু বিটিসিএল থেকে ক্রয় করেন, কিন্তু পিক আওয়ারে ১০০ থেকে ১১০ এমবিপিএস পর্যন্ত লোড নেয়। প্রতি মাসের ১ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন একাধিকবার লিংক ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ডাউন থাকে। মাস শেষে বিটিসিএলকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় মাসিক ইন্টারনেট চার্জ হিসেবে। প্রতি মাসে ৮০ থেকে ১০০ ঘন্টা বিটিসিএল এর ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বিটিসিএল প্রাপ্ত বিল থেকে টাকা কর্তনের কোন সুযোগ নেই বলে জানায়।
এ ছাড়াও বিটিসিএল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেইসবুকে ভিডিও দেখতে গ্রাহক পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে। সেবার মান নিম্ন হওয়ার পেছনে বিটিসিএল অন্যান্য বেসরকারী আইআইজি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাযোস রয়েছে কিনা এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখার দাবী জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com