পূর্ব লামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে খন্ডখালি শিক্ষক দিয়ে, বিদ্যালয়ে আসেননি প্রধান শিক্ষক

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে পূর্ব লামুয়া হাজী আতিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) খালেদ মিয়া ডেপুটিজেশনে বেতরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী পূর্ব লামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর হতে প্রতি মাসে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যালয়ে আসেননি বলে অভিযোগ অভিবাবকদের। কিন্তু এবিষয়টি জানেন না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ওই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবন। মাঝে মধ্যে আসলে দুপুর ১২টার পর আসেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অন্য কোন নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকায় ওই এলাকার জুলি বেগম ও তানিয়া আক্তার নামের ২জন খন্ডখালি শিক্ষিকা দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নামকাওয়াস্তে পাঠদান চলছে। সকাল ৯টা থেকে পাঠদান শুরু হয়ে বিকাল ৩টা ৪৫ মিটিন পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা থাকলেও কোন দিন ১টায় আবার কোনদিন ২টায় শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয় বলে স্থানীরা জানান। একই ইউনিয়নের দু’জন যুবক বলেন, একটি মেধাবৃত্তির কাজে দুই দিন দুপুর ২টায় আসলে স্কুল বন্ধ পাওয়া যায় এবং অপরদিন দুপুরে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
সরেজমিন ১২ আগষ্ট শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে গেলে বিদ্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এসময় বিদ্যালয়ের ছাদে ধান শোকানো অবস্থায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির জুবেদা বেগমকে পাওয়া গেলে তিনি বলেন, ২টায় জুলি ও তানিয়া ম্যাডাম স্কুল ছুটি দিয়ে চলে গেছেন। আজ প্রধান শিক্ষক আসছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি আসেননি।
পরে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বাড়ির তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাহিদ ও রেদওয়ানের বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা হলে তারা প্রধান শিক্ষকের নাম বলতে পারেনি এবং শিক্ষার্থীরা বলেন খালেদ স্যার মাঝে মধ্যে আসেন। অন্য বাড়ি’র দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাহি ও মিম একই কথা বলে। এভাবে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বাড়ির প্রায় ২০/২৫জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা সবাই একি কথা বলে।
বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বাড়ির কয়েকজন মহিলা অভিবাবকদের সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যার বৃত্তির টাকা দেয়ার সময় এবং পরীক্ষা হলে আসেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি হঠাৎ আসেন। এলাকার ম্যাডামরা যখন ইচ্ছা স্কুল ছুটি দিয়ে দেন। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার অবস্থা খুব খারাপ। ওই এলাকার যুবক সুমন আহমদও বলেন, খালেদ স্যার হঠাৎ স্কুলে আসেন।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আনর মিয়ার সাথে কথা হলে তিনিও প্রধান শিক্ষকের নাম বলতে পারেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন প্রধান শিক্ষককে নিয়মীত স্কুলে দেখা যায় না।
ইউপি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রুবি বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদ মিয়া মাঝে মধ্যে আসার কথা স্বীকার করে বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা পত্রিকায় তুলেন না। আমরা উনাকে নিয়মীত স্কুলে আশার ব্যবস্থা করব।
এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি উপরের অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে ডোকাতে তারা এঅভিযোগ তুলেছেন। তিনি আরোও বলেন, অন্য স্কুল থেকে ডেপুটিজেশনে শিক্ষকরা এখানে আসতে চান না।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। এখন জানতে পারলাম উনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন