জেলারসহ ৪টি বাড়িতে ডাকাতি, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১০লক্ষাধিক টাকাসহ মালামাল লুট ॥ আহত তিন ॥ পালিয়ে যাওয়ার সময় এক ডাকাত আটক

বিকুল চক্রবতীর্॥ শ্রীমঙ্গলের বৌলাশীর ও গন্ধর্বপুর গ্রামে একদল ডাকাত জেলার মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ ৪টি বাড়িতে ৬টি পরিবারের ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে লুট করে নিয়েছে মুল্যবান মালামাল।
এ সময় ডাকাতরা দা দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে আঘাত করে ৩ জনকে আহত করেছে। ডাকাত দল এসব বাড়ি থেকে প্রায় ১২ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ১০ লক্ষাধিক টাকাসহ মুল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে।
এদিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ও গ্রামবাসী পিছু ধাওয়া করে এক ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সুত্রে জানাযায়, শুক্রবার ভোর রাতে শ্রীমঙ্গল মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশীর গ্রামে চট্টগ্রাম সেন্টাল জেলের জেলার মুজিবুর রহমান এর গ্রামের বাড়ির রান্না ঘরের জানালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে তার পরিবারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ও তার অপর ৩ ভাই বাদশা মিয়া, ফারুক মিয়া ও হাবিবুর রহমানের মোট ১০টি ঘরের প্রায় ২০টি ষ্টিল আলমারী ও কাটের ওয়ার্ডপ ভেঙ্গে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪ ভাইয়ের ঘর থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ডাকাত দল একই গ্রামের রমা দেব এর বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে রমা দেব তাদের বাঁধা দেন এ সময় ডাকাতরা দা দিয়ে রমা দেবের হাতে কুপ দিয়ে গুরুতর আহত করে। রমা দেবের চিৎকারে গ্রামবাসী উঠে গেলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
এখান থেকে পালিয়ে গিয়ে ডাকাত দল পাশবর্তী ভূনবীর ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামে রাখাল দে এর বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে তার ছেলের সদ্য বিদেশ থেকে পাঠানো ৪০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা লোহার রডের আঘাতে রাখাল দে আহত হন।
একই সময়ে ডাকাত দল গ্রামের দক্ষিন পাশের সিতু দেব এর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে সিতু দেব ঘরের ভিতর থেকে চিৎকার দিলে পাশের ঘরের সুকান্ত কর ঘর থেকে বেড়িয়ে আসলে ডাকাতরা সুকান্তের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।
এ সময় ডাকাতরা পাশবর্তী বৌলাছড়া চা বাগান হয়ে হবিগঞ্জের বাহুবলের দিকে পালিয়ে গেলে গ্রামবাসীরাও একত্র হয়ে তাদের পিছু ছুঠেন। খরব পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশও তাদের ধাওয়া করে। এ সময় বৌলছড়া মন্দীরের পাশে জামাল উদ্দিনের বাসার দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাহুবল এলাকার এক ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে এক রাতে অনেক গুলো বাড়িতে ডাকাতের হানায় এ সব গ্রামগুলোতে বিরাজ করছে ডাকাত আতংক।
তবে শ্রীমঙ্গল থানা ওসি কে এম নজরুল ইসলাম জানান, যেহেতু একজন ডাকাতকে তারা আটক করেছেন তার মাধ্যমে কাছাকাছি সময়ে বাকী ডাকাতদের আটক ও লুট হওয়া মালামাল উদ্বারের তারা ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন অভিযান।



মন্তব্য করুন