মৌলভীবাজারে নেই ঈদের আমেজ

স্টাফ রিপোর্টার॥ আর মাত্র কয়েকদিন বাকী পবিত্র ঈদুল আজহার। যতই দিন যাচ্ছে ততই ঘনিয়ে আসছে ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে চারিদিকে চলছে ঈদের আগাম প্রস্তুতি। শহর-বন্দরে কেনাকাটা থেকে শুরু করে কুরবাণীর পশু কিনলেও আমেজহীন পরিবেশে বন্দি হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। পবিত্র ঈদুল ফিতরে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার কয়েক হাজার মানুষ ঈদে তাদের বসতবাড়িতে যেতে পারে নাই। তারপর পানি কমলেও আবারো বাড়তে শুরু করেছে। খেয়ে না খেয়ে পানি বন্দিবস্থায় দিনানিপাত করছেন হাওরপাড়ের মানুষগুলো।
কয়েকদফা বন্যায় একেবারেই নাকাল মৌলভীবাজারের হাওরপাড়ের মানুষগুলো। এর আগে অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারিয়েছে মানুষ। তারপর বন্যায় বসতবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। এখন আবার বন্যার পানি বাড়তে শুরু করেছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সব মিলিয়ে হাওর পাড়ের মৌলভীবাজারের ৩ উপজেলার মানুষের মাঝে নেই ঈদ আনন্দ।
একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা অপরূপ প্রকৃতির এই লিলাভূমিকে প্রকৃতি করেছে লন্ডভন্ড। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় অকাল বন্যায় কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় উপজেলার ৮ হাজার ২৩০ হেক্টর বোরো ধান শতভাগ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই ক্ষতের দাগ যখন দগদগে, তথনই হাওর তীরের মানুষ পড়েছে ভয়াবহ বন্যার কবলে। সেই বন্যার রেশ কাঠতে না কাঠতেই আবারো বন্যার কবলে পড়েছেন মানুষগুলো।
স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়া জেলার মানুষের এই দু:সময়ে সরকারি অপ্রতুল ত্রাণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাড়িয়েছেন সাহায্যের হাত। তারপরও শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি শতভাগ সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ।
হাওর পাড়ের মানুষগুলো বলেন, আমরা কি করব, সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব। গত ঈদুল ফিতরে বাড়িতে যেতে পারে নাই। এখন আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ ঈদটিতে বাড়ির বাইরে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতে হবে।
জুড়ীর বেলাগাঁও এলাকার ফারুক আহমদ বলেন, কুরবাণী কি করব। দু’বেলা ভাত খেতে পারছি না পরিবার নিয়ে। ঈদতো আমাদের জন্য না।
আফিয়া বেগম নামের একজন বলেন, কয়েক দফা বন্যায় আমরা সব কিছু হারিয়েছি। প্রতি বছর কুরবাণী করতাম। এবছর কুরবাণী করতে পারবো কিনা তা বলতে পারছি না। ঈদের কেনাকাটা কি করব, খেয়ে বাঁচা দুষ্কর।
একই কথা বলেন হাওরপাড়ের ফেরদৌসী আক্তার, সাদেকা আক্তার, শফিক মিয়া, সাইফুল ইসলামসহ অনেকে।



মন্তব্য করুন