মৌলভীবাজারে বাড়ছে হাওরের পানি: বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের দুর্ভোগ

August 29, 2017,

স্টাফ রিপোর্টার॥ গেলো বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠতে না ওঠতেই গত জুন মাসে টানা বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানিবন্ধী হয়ে দুর্ভোগে পড়েন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। কয়েকদফা বন্যায় হাওর পাড়ের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর ও সদর উপজেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, হাইল হাওরসহ জেলার ৩৩ টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি কিংবা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে।
আবহাওয়া আনুকূলে আসলে ধীর গতিতে পানি কমতে শুরু হলে কিছুটা পানি কমলে অনেকেই বাড়িতে ফিরেন। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার ছিল দুর্গত মানুষের মধ্যে। জেলা ব্যাপি রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ রয়েছিল প্রাথমিক ও উচ্ছ মাধ্যমিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। ১৯ প্রতিষ্টান এখনও বন্ধ আছে।
কিন্তু চলতি মাসের কয়েকদিন থেকে ভারি বর্ষণের আর পাহাড়ী ঢলে আবারো পানি বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে কিছু বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। এতে ফের ভোগান্তিতে পড়েছেন হাওর পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ।
কুলাউড়ার ভুকশিমইল গ্রামের সাহাব উদ্দিন জানান, বন্যার পানি কিছুটা কমছিল কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবার বাড়তে শুরু করছে। ফের পানি বৃদ্ধিার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।
রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের শামসুল করিম জানান, গত কয়েকদিন থেকে রাতের বেলা প্রচুর বৃষ্টি হয় তাই পানি বেড়ে নতুন করে বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর রাস্তাঘাট পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
জুড়ি উপজেলার হাসান আহমদ বলেন, গত জুন মাসে বন্যায় উপজেলা পরিষদ সহ রাস্তা-ঘাটে পানি ছিল মধ্যখানে কিছুটা কমলেও এখন আবার বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলা পরিষদের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে ও রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্রীয় সংকর চক্রববর্তী বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ফের হাওর ও নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আমরা খোঁজ রাখছি কোথাও ভাঙ্গন দেখা দিলে আমাদের মেরামতের প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com