পশুর হাটেও দূর্যোগের প্রভাব

August 30, 2017,

ওমর ফারুক নাঈম॥ মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। যত দিন ঘনিয়ে আসছে তত উদ্দীপনা বাড়ছে। ঈদুল আজহার অন্যতম উৎসব হচ্ছে পশু কোরবানি দেয়া। সাধ্যমতো চেষ্টার কমতি থাকে না কারো। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এ ঈদকে সামনে রেখে অনেক প্রবাসীর আগমন ঘটে। জমে ওঠে পশুর হাট। শহরের মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনের পশুর হাটই সবচেয়ে বড় ও বৈধ হাট।
মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনের পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, এখনও নেই ক্রেতার সমাগম। বেপারিরা পশু নিয়ে হতাশ হয়ে বসে আছেন। শুধু ক্রেতাদের অপেক্ষা। অন্যান্য বছর এই হাট ঈদের ১০-১৫দিন আগে থেকে ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটত। কিন্তু এ বছর বন্যা, নদী ভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ক্রেতাদের সমাগম নেই। প্রবাসী অধূষিত মৌলভীবাজার জেলার সর্ব বৃহৎ পশুর হাট স্ট্রেডিয়ামের প্রাঙ্গনের হাটের এই দশা। ক্রেতা বিক্রেতার চেয়ে বাঁশের খুঁটিই বেশী দৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন ঈদের দুই একদিন আগে এই হাট জমতে পারে।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা বাবুল বেপারী বলেন, আমি ১৫টি গরু নিয়ে গতকাল এই হাটে উঠেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিই বিক্রি করতে পারি নাই। হাটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। ক্রেতার যে দাম বলেন তা খুবই কম। ১০বছর ধরে এই হাটে উঠছি কোন বছর এই অবস্থা দেখি নাই। শিবগঞ্জ থেকে আসা আবুল হোসেন বলেন, এবার ২৫টি গরু নিয়ে হাটে উঠেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিএ বিক্রি করতে পারি নাই। ক্রেতারা যে দাম বলেন তা দিয়ে পুশাবে না। শিবগঞ্জ থেকে আসা আরেক বেপারী বিজয় ফকির বলেন, ১৫টি শাহী ষাড় নিয়ে উঠেছি । একটির দাম ২লাখ ৫০ হাজার কিন্তু ক্রেতারা বলেন ২লাখ ৫হাজার। তবে দুই একদিনের মধ্যে বিক্রি হতে পারে।
মৌলভীবাজার শহরের একমাত্র বৈধ পশুর হাট হলো এই হাট। এ ছাড়া চাঁদনীঘাট, মোকামবাজার, দিঘিরপাড়ার বাজার সহ বিভিন্ন পশুর হাটকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। এসব বৈধ পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তের জন্য পুলিশের বুথে মেশিন থাকবে।
মৌলভীবাজার জেলায় এবার প্রায় ৭৪ হাজার ৮৭০টি (সম্ভাব্য) গবাদী পশু কোরবানি দেয়া হবে। তবে চাহিদা রয়েছে ১ লক্ষ ১১ হাজার ২৮১টি গবাদিপশুর এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতর মৌলভীবাজারের কর্মকর্তা ডা: মো সহিদুল ইসলাম।
চাহিদার তুলনায় কম প্রস্তুুতি বন্যা ও ফসলহানির কারণে কোরবানিতে এই প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি। তবে পাশ্ববর্তী দেশ ও জেলা থেকে আসা পশু এই ঘটতি পূরণ করতে পারবে। এছাড়া পারিবারিকভাবে আরোও গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে কোরবানির পশুর কোনো সঙ্কট পড়ার সম্ভাবনা কম।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com