১৬ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন ভারতের ১৫ নাগরিক

হোসাইন আহমদ॥ সিলেট ও মৌলভীবাজার কারাগারে নির্দিষ্ট সাজা শেষ হওয়ার পরেও উভয় দেশের আইনী জটিলতার কারণে ভারতের ১৫ জন নাগরিক দেশে যেতে পারছিলনা। ওই ১৫ জন ভারতীয় নাগরিককে তাদের দেশে পাঠাতে জেলা কারাগার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ভারতীয় হাই কমিশনের প্রথম সেক্রেটারী (কনসুলার) শ্রী রামাকান্ত গুপ্ত, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করে উভয় দেশের পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, বিএসএফসহ বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় ওই ১৫ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের ভারত পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন ওই সমাজ সেবক।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর কারাভোগের পর নিলু সিংহকে ১৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট সীমান্তপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হন্তান্তরর করেন অমলেন্দু কুমার দাশ। ১৬ বছর পর বাবাকে কাছে পাওয়ার বাঁধভাঙা আনন্দে সকাল থেকেই আখাউড়া সীমান্তের ওপারে আগরতলা নোম্যান্স ল্যান্ডে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন নিলু সিংহের মেয়ে ষোড়শী রনিকা দেবী। জন্মের পর প্রথম বাবাকে দেখতে পেয়ে সীমান্তরেখা উপেক্ষা করে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বাবার বুকে মাথা রেখে পরম আদরে চোখের জলে বুক ভাসায় মেয়ে রনিকা দেবী। বাবা-মেয়ের আনন্দাশ্রু দেখে উপস্থিত সবার চোখ পানিতে ভিজে যায়।
২৪ নভেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজীপুর জেলার সুকাই নেপা, রাজু আলী ও সুপ কুমারসহ আরো একজনকে সিলেটের সুতারকান্দি বর্ডার দিয়ে তার পিতার কাছে হস্থান্তর করেন।
১৪ নভেম্বর দীর্ঘ ১৪ বছর পর কারাগার থেকে ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া বর্ডার দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের সঞ্জিত কুমার, রিতং ও নয়ন দেব বর্মণকে তাদের অভিবাবকরে কাছে হস্থান্তর করেন।
১৬ মাস কারাভোগের পর ২৯ মে জয়ন্তী বিশ্বাস ও ছেলে প্রাণতোষ বিশ্বাসকে মুক্তি করে আখাউড়া আইসিপি দিয়ে ভারতে পাঠান এবং ১৪ বছর বন্দি থাকার পর ৬ নভেম্বর সিলেট জেলার সুতারকান্দি বর্ডার দিয়ে অথৈই, থাইক, উইনার, নিনহুরি ও নিতবিকে ভারতে তাদের স্বজনের কাছে হস্থান্তর করেন।
জেল সুপার আনোয়ারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ দিন পরে সকলের সমন্বয়ে এবং সহযোগীতায় ভারতীয় নাগরিকদের পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।



মন্তব্য করুন