৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

December 7, 2017,

আশরাফ আলী॥ আজ ৮ ডিসেম্বর। মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস।  ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহর থেকে পাকহানাদারদের পরাজিত করে মৌলভীবাজারকে মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাই বরাবরের মতো দিবসটি উৎযাপন করছেন মৌলভীবাজারবাসী। দিবসটি উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার শহরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পকস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে বিকেলে তথ্য অফিসের আয়োজনে তথ্যচিত্র ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

২ ডিসেম্বর রাতে মৌলভীবাজারের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়। আক্রমণের মুখে পাক সেনারা শমশেরনগরে টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে।

মৌলভীবাজারে ছিল পাক সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী মৌলভীবাজার দখলের উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বড়টিলা নামক জায়গায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ১২৭ জন সেনা নিহত হন।

৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে তারা ব্যর্থ হতে থাকে। এ অঞ্চলের পরাজিত পাকিস্থানি সৈন্যরা তখন সিলেট অভিমুখে পালাতে শুরু করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হন।

সিলেটে যাওয়ার পথে তারা শেরপুরে অবস্থান নেয়। অবস্থান নিরাপদ নয় মনে করে সিলেট চলে যায়। এই ঘাতক বাহিনী পিছু হটার ফলে ৮ ডিসেম্বর পুরো মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয় এবং আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।

মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজারের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪৭০ জন। এর মধ্যে সংগঠক ছিলেন দুইশ’র বেশি।

৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে পাক হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ মুক্ত শহরে প্রবেশ করে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, এ বছর দিবসটি জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮.৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কার্যসূচী শুরু হবে।

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com