জোড়া খুন : স্কুল থেকে কোনো প্রতিবাদ না করায় ক্ষোব্ধ পরিবার : মাহির পরিবার এখোনও মামলা করেনি

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজারে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্ধে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহি এবং ছাত্রলীগ নেতা শাবাব নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি মাহির বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ না করায় মাহি’র পরিবার ও জেলার সচেতন অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের প্রভাবশালী কর্মীদের হাতে ঘটনাটি ঘটায় বিভিন্ন মহলের চাপে হয়তো শিক্ষকরা কোনো আন্দোলন হাতে নিতে পারছেন না। এমন আলোচনা-সমালোচনা জেলার অধিকাংশ অভিবাবকের মুখে।
নিহত মাহির মা জুলেখা বেগম এখনও ভারসাম্যহীন। ছেলে হারার শোকে এখনও তাদের পরিবার স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। উভয় পরিবারে কান্না চলছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহির মামা ইমরান মিয়া বলেন, শহরের বিভিন্ন স্কুল থেকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমার কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। কিন্তু মাহি’র স্কুল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তিনি আরোও বলেন, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যাতে এই ঘটনায় কোনো নির্দোশ ছাত্রকে জড়ানো না হয়।
বুধবার নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মাহির স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক এসে তার পরিবারের হাতে একটি শোকবার্তা দেন।
শহরের একাধিক সচেতন অভিবাবকরে সাথে কথা হলে তারা বলেন, এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের যদি আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া না হয়। তাহলে অন্যান্য অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আগামীতে ওই শান্তির শহরে আরোও বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে তারা প্রশাসরে প্রতি অনুরোধ জানান।
ঘটনার ১ সপ্তাহ অতিবাহহিত হলেও মামলার প্রধান আসামীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করতে না পারায় দুই পরিবারের মধ্যে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। মাহির মামা বলেন, রাজনীতিক মামলায় ন্যায় বিচার পাবনা ভেবে মামলা করিনি। তবে আমার বোন স্বাভাবিক হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান বলেন, ইতি মধ্যে আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোক প্রকাশ করেছি এবং স্কুলের গেইটের সামনে শোক ব্যানার দিয়েছি। আগামীতে আরো বড় প্রতিবাদ করার চিন্তা আছে।



মন্তব্য করুন