জুড়ীতে সংরক্ষিত বনের সেগুন গাছ কেটে ফেঁসে গেলেন বিট কর্মকর্তা মৌখিক নির্দেশ দাতা ধরাছোয়ার বাহিরে

জুড়ী প্রতিনিধি॥ জুড়ীতে বড়কর্তার মৌখিক নির্দেশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুইটি বিশাল সেগুন গাছ কেটে পাচার করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন লাঠিটিলা বনবিটের কর্মকর্তা নিতীশ চক্রবর্তী। পিকআপ যোগে পাচারকালে ধরা পড়ায় বিভাগীয় বন কর্তকর্তা ওই বিট কর্মকর্তাকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করেছেন। তবে গাছ কাটার মৌখিক নির্দেশ দাতা থেকে গেলেন ধরাছোয়ার বাহিরে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বনবিভাগের জুড়ী রেঞ্জের আওতাধীন লাঠিটিলা বনাঞ্চলে প্রচুর সেগুনগাছ রয়েছে। রোববার এ বনবিটের শুকনাছড়া এলাকা থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা মূল্যের দুইটি বিশাল সেগুনগাছ কেটে টুকরা করে রাখা হয়। এর মধ্যে একটি প্রায় ছয় ফুট ও অন্যটি তিন ফুট বেড়ের। পরদিন দুপুরে গাছের টুকরাগুলো একটি পিকআপভ্যানে বোঝাই করা হয়। এ দিকে গাছ কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা সেখানে গিয়ে কাটা দুইটি গাছের গোড়ায় আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা নিতিশ চক্রবর্তীসহ অন্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে বন বিভাগের লোকজন সদুত্তর দিতে পারেনি। এ অবস্থায় উপস্থিত লোকজন গাছবোঝাই গাড়িটি আটকে রেখে স্থানীয় গোয়ালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। পরে চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে বন বিভাগের লোকজন গাছভর্তি গাড়িটি বিট কার্যালয়ে নিয়ে যান। সুত্র জানায়, জুড়ী রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক আব্দুল মান্নানের মৌখিক নির্দেশে বিট কর্মকর্তা বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই সেগুন ঢাকায় পাঠানোর জন্য গাছ দুইটি কেটে টুকরা করে পিকআপে তুলা হয়েছিল। গাছেন আলামত নষ্ট করতে সাথে সাথেই গাছের গুড়ায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা নিতিশ চক্রবর্তী জানান, দুইটি সেগুন গাছ একটির ওপর আরেকটি হেলে পড়েছিল এবং চুরি হওয়ার আশংকা ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে গাছগুলো কাটা ‘ভুল’ হয়েছে। নির্দেশ দাতা বেচে গিয়ে তাকেই ফাসিয়ে দেয়া হয়েছে।
জুড়ী রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক আবদুল মান্নান জানান, লাঠিটিলায় দুটি সেগুনগাছ গাছ কাটার ব্যাপারে বিট কর্মকর্তাকে তিনি কোন অনুমতি দেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সিলেট বিভাগীয় বন সংরক্ষক আরএসএম মনিরুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে জানান, সেগুন গাছ দুইটি আসলেই ঝরেপড়া ছিল। তবে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কাটা হয়। ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে লাঠিটিলা বনবিটের কর্মকর্তা নিতীশ চক্রবর্তীকে তার কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন