লবর পানের আগমনে খাসিয়া পুঞ্জিতে গুলোতে উৎসবের আমেজ

March 30, 2019,

শ্রীঙ্গল প্রতিনিধি॥ খাসিয়া পান আদিবাসী খাসি জনগোষ্ঠীর জীবিকা আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে এই পান চাষ। মৌলভীবাজারের ৬টি উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়  ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৬৫টি খাসিয়া পুন্জি (গ্রাম) পান পুঞ্জি রয়েছে। তবে এ বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় পান গাছে ‘লবর’ নতুন পানের দেখা পেয়েছেন পান চাষিরা। তাই পুঞ্জি গুলোতে নতুন পান উত্তোলন শুরু হয়েছে পানের ভালো দামও পাচ্ছেন। পান গুছানো ও বিপননের ব্যস্ত সময় পার করছেন খাসি নারী ও পান চাষীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া খাসিয়া পুন্জির মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) ও বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের মহাসচিব  ফিলা পতমী বলেন সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পান গাছ থেকে সম্পূর্ন পান উত্তোলন শেষ হয়ে যায়।

সময় মতো বৃষ্টি দিলে মে মাসের শেষ দিকে আবারও পান উত্তোলন শুরু  হয়। তবে এবার আগাম বৃষ্টির কারনে মার্চ মাসেই পান উত্তোলন শুরু হয়েছে। সাধারণত  মার্চ আর এপ্রিলে গাছে পান থাকেনা তাই পুন্জির লোকজন হয়ে পড়েন বেকার। এবার সেই অবস্থায় পড়তে হচ্ছে না খাসিয়া পান পুন্জির বাসিন্দাদের। এসব  পান পুঞ্জির বাসিন্দারা অধিকাংশ হচ্ছেন খাসিয়া (খাসি) সম্প্রদায়ের। এর বাইরে কিছু গারো পরিবার আছে।

তাদের উৎপাদিত পান স্থানীয়ভাবে খাসিয়া পান নামে পরিচিত। প্রথা অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পানের লংখং বা গাছের সম্পূর্ণ পান উত্তোলন শেষ হয়ে যায়। মার্চ এপ্রিল এ দুই মাস গাছে পান থাকেনা এসময় পান পুঞ্জি গুলোতে পান উত্তোলনের কোন কাজ থাকেনা। এ দুইমাস পান চাষিরা সাধারণত বেকার সময় কাটাতে হয়। তারা এ সময়টি আর্থিক সংকট পার করেন। কিন্তুু এবার আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় পান গাছে আগাম পান চলে এসেছে। এতে পান উত্তোলন বেশীদিন বন্ধ থাকেনি। জেলার প্রায় সব পান পুঞ্জিতেই ‘লবর’ বা নতুন পান উত্তোলন শুরু হয়েছে। যে সব পুন্জিতে সেচ সুবিধা আছে, সেচ দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে পানের পরিমান বেশী এসেছে। আগাম পান আসায় পান চাষীরা বাজারে পানের দামও ভালো পাচ্ছেন।

পানের মৌসুমে যেখানে পানের আকার বড় থাকে তখন এক বিড়া (১৪৪) বা, কান্তা তখন পানের দাম মেলে ২০ থেকে ৩০টাকা।আর এখন পানের আকারও ছোট মৌসুমের মতো অতটা বড় না এক বিড়া (কান্তা) পানের দাম মিলছে ১২০টাকা। এতে পান চাষীরা লাভবান হচ্ছেন।যে সময়টিতে আর্থিক সংকটে থাকার কথা সেই সংকটে পড়তে হচ্ছে না খাসিয়া পান চাষিদের।

এ ব্যাপারে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান বলেন এবার আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় জেলার ছোটবড় সব পুঞ্জিতেই কমবেশি নতুন পান উত্তোলন হচ্ছে। এ পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে তাই সরকারী আর্থিক সহায়তা পেলে খাসিয়া পান চাষীরা আরও লাভবান হতে পারতেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com