জুড়ীতে বৃষ্ঠিতে ভিজছে কৃষকের ধান বস্তা প্রতি আদায় হয় ২০ টাকা

জুড়ী প্রতিনিধি॥ জুড়ীতে সরকারের ধান ক্রয় কর্মসুচি অনেক দরিদ্র কৃষকের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। সরকারী দামে ধান বিক্রয় করতে গেলে গুদামে জায়গা নেই জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাদ্যগুদামের সামনের খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখেছেন কৃষকের স্বপ্নের ধান। এতে দুরদুরান্ত থেকে নিয়ে আসা ধান বৃষ্ঠিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মাটির আদ্রতায় ধানের গুনাগুনও বিনষ্ট হচ্ছে। এদিকে লেবার কষ্টের নামে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ২০ টাকা আদায় করছেন গুদাম কর্মকর্তা কিয়াম উদ্দিন।
খাদ্য গুদাম সুত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়ন থেকে সরকারীভাবে ১০৪০ টাকা মন দরে ৩৯৫ মে. টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৮ মে এ কর্মসুচি শুরু হয়। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এ কর্মসুচি চলবে। রোববার বিকেল পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৬৪ মে. টন ১৬০ কেজি ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ধান সংগ্রহে কৃষকের কাছ থেকে ৬৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন খাদ্যগুদান কর্মকর্তা কিয়াম উদ্দিন। এছাড়াও ধান বিক্রি করতে খাদ্যগুদামে গিয়ে অনেক কৃষক নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
রোববার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে খাদ্যগুদামের সামনে খোলা আকাশের নিচে কৃষকের সারি সারি ধানের বস্তা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখে আগত কৃষকের চোঁখে-মূখে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করতে দেখা যায়। উপজেলার সাহপুর ও গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে আগত কয়েকজন কৃষক জানান, সকাল ১০টায় ধান নিয়ে গুদামে এসেছেন। বিকেল সাড়ে ৪ টায় কর্মকর্তা বলছেন লেবার সংকট ও গুদামে জায়গা নেই তাই বাহিরে ধানগুলো রেখে যেতে হবে। এতে ঝড়-বৃষ্ঠিতে তাদের ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন। কৃষকরা অভিযোগ করেন, এখানে ধান বিক্রি করতে গুদাম কর্মকর্তাকে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। সবাই তার অলিখিত এ নিয়ম মেনেই ধান বিক্রি করছেন।
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিয়াম উদ্দিন জানান, গুদামে খালি জায়গা না থাকায় কৃষকের ধান বাহিরে রেখেছেন। গুদাম খালি হলে মেপে তা বুঝে নিবেন। বস্তা প্রতি ২০ টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথমে এসব পত্রিকায় না লিখতে বললেও পরে বলেন, লিখেন কোন সমস্যা নেই। এটা সবাই জানে।



মন্তব্য করুন