বড়লেখায় টিএমএস’র স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানী ১ বছর আগে ঋণ আদায় : মামলা নিষ্পত্তি না করায় গ্রাহক গ্রেফতার !

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় ঋণ প্রদানকারী এনজিও সংস্থা টিএমএসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ইতিপুৃর্বে টিএমএসের জাকারিয়া হোসেন ও মাহবুবুর রহমান নামে দুই মাঠকর্মী অনেক গ্রাহকের কিস্তির টাকা আদায় করে তা আত্মসাত করেছে। কিন্তু কোম্পানী আজও নিরীহ এসব গ্রাহকদের টাকার হিসাব দেয়নি। প্রায় ১ বছর পূর্বে খেলাপি ঋণের ২০ হাজার টাকা পরিশোধের পরও মামলা প্রত্যাহার না করায় বৃহস্পতিবার রাতে রাবিয়া বেগম নামে এক গ্রাহকের ছেলে রাশেদ আহমদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস কুমার বিশেষ বিবেচনায় এ আসামীর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
জানা গেছে, ঋণ প্রদানকারী এনজিও সংস্থা টিএমএস-১ এর বড়লেখা শাখা থেকে ২০১৮ সালে ২০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ উত্তোলন করেন উপজেলার রোকনপুর গ্রামের গ্রাহক রাবিয়া বেগম। অধিক হারে সুদ আদায় করায় গ্রাহক যথারীতি কিস্তি প্রদান করতে পারেননি। ১০ হাজার টাকা খেলাপি হলে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে টিএমএস রাবিয়া বেগমের ছেলে রাশেদ আহমদের বিরুদ্ধে সিলেটের একটি আদালতে মামলা করে। মামলার সমন পেয়েই ঋণ খেলাপি রাবিয়া বেগম গত বছরের এপ্রিল মাসে টিএমএসের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেন। টিএমএস কর্মকর্তা সংশি¬ষ্ট আদালতে খেলাপি টাকা পরিশোধের বিষয় নিশ্চিত করে মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। কিন্তু আদালতকে অবহিত না করায় গ্রাহক রাবিয়া বেগমের ছেলে রাশেদ আহমদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। বৃহস্পতিবার রাতে বড়লেখা থানা পুলিশ টিএমএসের মামলায় রাশেদ আহমদকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
টিএমএসের সাবেক গ্রাহক রাবিয়া বেগম অভিযোগ করেন প্রায় ১ বছর আগে বড়লেখা অফিসে গিয়ে খেলাপি ঋণের টাকা পরিশোধ করেছি। তারা মামলা প্রত্যাহার করবে জানালেও তা করেনি। আদালত ওয়ারেন্ট জারি করেন। পুলিশ আমার ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। টিএমএসের স্বেচ্ছাচারিতায় আমাদের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি।
টিএসএসের বড়লেখা ব্যবস্থাপক নব কুমার বিশ্বাস রারিয়া বেগমের খেলাপি ঋণের টাকা প্রায় ১ বছর আগে পরিশোধের সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলার বিষয়গুলো অন্য অফিস ড্রিল করে। তারা বিষয়টি আদালতকে জানায়নি এজন্য আদালত ওয়ারেন্ট জারি করেন। তবে গ্রেফতারের পর ওই গ্রাহকের ছেলেকে থানায় গিয়ে দেখেছেন এবং টাকা পরিশোধের ছাড়পত্রও দিয়েছেন। এদিকে টিএমএসের স্বেচ্ছাচারিতা, গ্রাহক হয়রানী ও মামলা সংক্রান্ত অনেক প্রশ্নের সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি।
এদিকে প্রায় ১ বছর আগে খেলাপি ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস কুমার শুক্রবার দুপুরে টিএমএম এর মামলায় গ্রেফতার আসামী রাশেদ আহমদকে জামিন দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন