রাষ্ট্রীয় চা বাগানেই মানা হচ্ছে না সরকারী নির্দেশনা : মারাত্মক ঝুঁকিতে চা শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তারা

March 28, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ সরকারের দেয়া নির্দেশনা মানা হচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ ও পাথারিয়া চা বাগানসহ ১৭টি বেসরকারী চা বাগানে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না করেই তাদেরকে দিয়ে টিলা, ফ্যাক্টরীসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করানো হচ্ছে। খোলা রাখা হয়েছে বাগানের কার্যালয়, চলছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ৭ হাজার চা শ্রমিক, কমর্চারী ও কর্মকর্তা। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের লকডাউন ঘোষণা ও নানামুখী পদক্ষেপ যেন চা বাগানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যই নয় ! বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারিবুবর রহমান চা বাগানকে দ্রুত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত করতে ২৬ মার্চ শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবরে দরখাস্ত করেছেন।

জানা গেছে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ ও পাথারিয়া চা বাগানে প্রায় ২ হাজার নিয়মিত শ্রমিক ও শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অফিস-আদালত সাধারণ ছুটি ও লকডাউন ঘোষণা করে। ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যতিত সবধরণের দোকান পাঠ বন্ধ ঘোষণা করে। খুব জরুরী না হলে কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্ত বড়লেখার দুইটি সরকারীসহ ১৭ চা বাগানে তা কার্যকর করা হয়নি। চা বাগান যেন করোনা ভাইরাস বিস্তারের আশংকা মুক্ত। প্রশ্ন উঠেছে চা বাগানগুলো কি করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে নানা সতর্কতা অবলম্বনকারী বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন অংশ।

২৮ মার্চ শনিবার সকালে সরেজমিনে নিউ সমনবাগ ও পাথারিয়া চা বাগান ঘুরে শ্রমিকদের দল বেধে কাজে যেতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থাই সেখানে লক্ষ করা যায়নি। চা বাগানের কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাভাবিক কার্যক্রম করছেন। তবে তাদের চোখে-মুখে অজানা এক আতংক বিরাজ করতে দেখা দেছে। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপি যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এর তেমন কোন প্রয়োগ নেই চা বাগানগুলোতে। নারী চা শ্রমিক অমি সাওতাল, শিলা রিকমুন, যমুনা রিকমুন, নমিতা কৃষ্ণ গোয়ালা, মিনা রিকমুন প্রমুখ জানান, ‘শুনছি দেশে কি একটা কঠিন অসুখ এসেছে, সরকার সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের বাগানতো বন্ধ দেয়নি তাই কাজে যাচ্ছি। এ অসুখ প্রতিরোধে বাগানের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান, বাসায় ব্যক্তিগভাবে হাতমুখ ধুয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী খান ও পাথারিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাহিদ নেওয়াজ জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রীমঙ্গল) উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম গত ২৫ মার্চ এক চিটিতে সরকার ঘোষিত এ সাধারণ ছুটি চা বাগানগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয় জানিয়েছেন। এজন্য তারা বাগান ছুটি দেননি।

বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারিবুবর রহমান জানান, দেশ তথা বিশ্বব্যাপি মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধকল্পে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে রাষ্ট্র প্রধানের নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি অফিস-আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। চা শিল্প সেক্টর একটি শ্রমগণ প্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই এখানে ঝুকির আশংকা বেশি। দ্রুত চা শিল্পকে সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবরে গত ২৬ মার্চ তিনি লিখিত আবেদন করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com