জুড়ীতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ

জুড়ী প্রতিনিধি॥ নদী ভাগ করে দিয়েছে দুটি ইউনিয়নকে। দুই পাড়ের লোকজন প্রতি দিন নানা কাজে এপারে-ওপারে আসা-যাওয়া করেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী লোকজন প্রতি দুই বছর পর পর চাঁদা তুলে নদীর ওপর সাঁকো নির্মাণ করেন। এবারও সে কাজ তাঁরা শুরু করেছেন।
জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের খালেরমুখ বাজারের সোজাসুজি জুড়ী নদীর ওপর এই সাঁকোটি পড়েছে।
গতকাল সকালে করোনা পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পাকার ১২টি খুঁটি স্থাপন করে এর ওপর বাঁশের ফালি বিছিয়ে সাঁকো নির্মাণের কাজ চলছে। শ্রমিকদের কেউ করাত দিয়ে বাঁশ কেটে ফালি তৈরি করছেন। আবার কেউ সাঁকোর ওপরে ফালিগুলো বিছিয়ে একটিকে আরেকটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধছেন। লাঠি ভর দিয়ে হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছিলেন নয়াগ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি ওয়াহেদ আলী। আলাপচারিতায় বললেন, ‘বয়স তো একশোর বেশি। কবে থেকে শুনছি এইখানে ব্রিজ হইব। কত মাপজোক হইল। ব্রিজের কোনো খবরই নাই। চলাচল তো করা লাগব। এর লাগি এলাকার মানুষ অনেক আগে থাকিই চাঁদা তুলি এইটা (সাঁকো) বানায়।’
একই এলাকার বাসিন্দা ডাঃ ফারুক আহমদ কাছের হাকালুকি হাওরের বোরো ধানের খেত দেখিয়ে বলেন, সেখানে নয়াগ্রামসহ দুটি ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রামের লোকজনের জমি রয়েছে। ধান কাটার সময় হয়ে গেছে। ওই সাঁকো দিয়েই হাওরের ধান আনতে হয়। নয়াগ্রামের লোকজনকে প্রতি দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে সাঁকো পার হয়ে খালেরমুখ বাজারে যেতে হয়। এ ছাড়া এলাকার শিক্ষার্থীরা ওই সাঁকো দিয়ে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, সাঁকোটি ১৪০ ফুট লম্বা। এক বার তৈরি করলে প্রায় দুই বছর চলে। কারণ, বৃষ্টিতে বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যায়। অন্যান্য বার বাঁশের খুঁটি দিতেন। তবে এবার পাকার খুঁটি স্থাপন করেছেন। সাঁকোটি যাতে বেশি দিন টেকে-সে কারণেই এ ব্যবস্থা। সাঁকোটির নির্মাণকাজে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা চাঁদা উঠেছে। সপ্তাহখানেক আগে কাজ শুরু হয়েছে। সম্পন্ন হতে আরও চার-পাঁচ দিন লেগে যাবে। জামাল হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গিয়া সহযোগিতা চাইছিলাম। কেউ করল না।’
এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবদুল মতিন মুঠোফোনে বলেন, ওই স্থানে ২০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকার সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মার্চ (২০২০) মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি সামলে ওঠার পর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



মন্তব্য করুন