করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সচেতন রয়েছেন বেরেঙ্গা খাসিয়া পুঞ্জির অধিবাসীরা

জুড়ী প্রতিনিধি॥ বড়লেখা উপজেলায় চা-বাগানের পাশ ঘেঁষে ছোট ছোট টিলাঘেরা বেরেঙ্গা খাসিয়া পুঞ্জি। পুঞ্জির প্রবেশের পথ আটকে রাখা হয়েছে। শুধু জরুরি প্রয়োজনে ভেতরে বা বাইরে কাউকে আসা যাওয়া করতে দেওয়া হয়। ভেতরে কোনো কোলাহল নেই। শিশুদের কেউ ঘরে টেবিলে বসে বই পড়ছে, কেউ বারান্দায় খেলাধুলা করছে, কেউ আবার দেখছে টেলিভিশন। আর বড়রা ব্যস্ত গৃহকর্মের কাজে। গির্জায়ও তালা ঝুলছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এভাবেই সচেতন রয়েছেন বেরেঙ্গা খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাগন।
সরেজমিনে গিয়ে পুঞ্জির প্রবেশ ফটক আটকানো দেখা যায়। বাইরে দাড়িয়ে ফটকের কড়া নাড়তেই ছুটে এলেন এক কিশোর। মাস্ক পরা কিশোরটি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই পুঞ্জির মন্ত্রীর (পুঞ্জি প্রধান) সঙ্গে কথা বলে ফটক খুলে দেয়। ভেতরে প্রবেশ করেই পুঞ্জি প্রধান অলমি পতামের মেয়ে ব্লেসমী বাড়ে ও ফিবি বাড়ের সাথে কুশল বিনিময় শেষে পুঞ্জির ভেতরে নিয়ে যায় তারা। ছোট ছোট টিলার ওপর তাদের বসতঘর। পুঞ্জির ভেতরের রাস্তা একেবারে ফাঁকা। লোকজনের তেমন কোন আনাগোনা নেই। সাবেক পুঞ্জিপ্রধান কোয়ানসিং পিঠে যন্ত্র বেঁধে পুঞ্জির ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাটে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন। রিজেল বাড়ে নামের এক নারী বাড়ির পাশের কুয়া থেকে পানি টেনে তুলছে। সেভেন লিনা নামের এক শিক্ষার্থী বসে বসে বই পড়ছে, বাড়ির উঠানে ফুটবল খেলছে ওয়েসলি লামিন, আরিয়ান লামিন ও রিলেন পাটুয়াট নামের তিন শিশু। হসপিতাল বাড়ে ও প্রীতি বাড়ে নামের দুই নারী ব্যস্ত গৃহকর্মে কাজে।
পুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) অলমি পতাম বললেন, আমাদের পুঞ্জিতে ৬২টি খাসিয়া পরিবার থাকে। লোকসংখ্যা ৫২০ জন। খাসিয়াদের একমাত্র জীবিকা পানচাষ। পান বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনার কথা জেনে পুঞ্জির প্রবেশ ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। পানের জুম থেকে ফেরার পর ও খাবার আগে সবাইকে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত-মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। পাশের শাহবাজপুর বাজার থেকে তাঁরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনেন।
অলমি পতাম বলেন, ‘পুঞ্জির মানুষ যে খুব সচ্ছল, এটা বলা যাবে না। কিন্তু, নিজেদের রক্ষায় সরকারের নির্দেশ তো মানতেই হবে। সবাই কষ্টে থেকেও নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিশুরা বাড়িতে লেখাপড়া করে। খেলাধুলা করে। টেলিভিশন দেখে। সবাই সুস্থ আছে।’ পুঞ্জির বাসিন্দা এবারসন লামিন বলেন, খুব জরুরি কাজ না থাকলে কেউ-ই ঘর থেকে বের হন না। এমনকি এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতেও বেড়ানো বন্ধ। গির্জায় প্রার্থনাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে বসে সবাই ঈশ্বরের প্রার্থনা করেন। মাঝেমধ্যে পুঞ্জির লোকজন পানের জুমে কাজ করতে যান। এ ছাড়া এখন পানের সংকট। বৃষ্টি না হওয়ায় পানের কুঁড়ি গজাতে দেরি হচ্ছে।



মন্তব্য করুন