ধানে চিটা হওয়ায় আধা-কাচা ধান কাটছেন কৃষকরা

সাইফুল ইসলাম॥ শ্রীমঙ্গল হাইল হাওর ও বিভিন্ন গ্রামে চলতি মৌসুমে পানি সংকট থাকায় বোরো ধানে চিটা হওয়ায় আধা কাঁচা-পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।
অপরদিকে, করোনা ভাইরাস প্রার্দুভাবে মৌলভীবাজার লকডাইন ঘোষণা করায় ধান কাটার শ্রমিকরা ঘর থেকে বের না হতে পারায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন,ভূনবীর ইউনিয়ন,আশিদ্রোন ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের দেখা যায়, ধানে চিটা হওযায় বোরো আধাপাকা ধান ক্ষেত কেটে নিচ্ছে ওই এলাকার কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া ও সেচ ব্যবস্থা না থাকায় ধানে রোধে পুড়ে চিটা হয়ে যাওয়ায় আধাপাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে মাড়াই করা শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৩৯৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ বেশি হয়েছে।
প্রান্তিক চাষিরা বলেছেন, পানির অভাবে প্রায় কয়েক শত একর ধানের চারা নষ্ট হতে বসেছে। শুকিয়ে যাওয়া মাটি ফেঁটে চৌঁচির। এই সময়ে ধান গাছে ফুল এসেছে কিন্তু, পানির অভাবে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ধানের চারা মরে গেছে। তারা বলেছেন, চলতি করোনা মহামারির কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় এই ধানের ওপর তারা আশার বীজ বপন করেছিলেন। এখন তাদের সব স্বপ্ন ধুলায় মিশে যেতে বসেছে।
পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের বোরো ধান চাষী আলমগীর মিয়া জানান, ধান ভালো হলেও ধান আধাপাকা হয়ে সব ধান চিটা হয়ে গিছে। আমরা ৩০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান পুড়ে চিটা হয়ে গেছে । যেখানে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়া যেত,এখন ৮ মণ ধানও পাওয়া যাবে না। ’
একই গ্রামের মছদ্দর মিয়া বলেন,করোনা ভাইরাসে কাজ না থাকায় ঘরে এক সপ্তাহ ধরে খাবার নেই,ধানে রোগও দেখা দিয়েছে তাই কাচাধান ঘরে তুলছি। কাচাধান না কাটলে আমরা ছেলে-মেয়ে নিয়া না খাইয়া মরতে হবে।
এদিকে পশ্চিমভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া সোমবার চিটা হওয়ার ক্ষোভে তার ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আশপাশের কৃষকরা এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে আগুন দেয়া বিষয়টি শুনে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো.সোহেল রানা ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে স্থাণীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে নানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, প্রধানতো স্থানীয় নদীতে পানি নাই। আর দ্বিতীয়তো বৃষ্টিপাত না হওযায় ধানে কিছুটা চিটা হয়েছে। তবে ধানে চিটা থাকবে। তারপরও চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান গাছ তার জীবনচক্ররে মধ্যে কাইচথোড় থাকে ফুল ফোটা র্পযন্ত সময়ে অতিরিক্ত ঠা-া ও গরম সহ্য করতে পারে না। ওই সময় বাতাসরে তাপমাত্রা যদি ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসরে নিচে অথবা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে যায় তাহলে ধানে ব্যাপকভাবে চিটা দেখা দেয়।’



মন্তব্য করুন