বড়লেখা ও জুড়ীর শঙ্কিত কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে উপজেলা ছাত্রলীগ

April 25, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখা ও জুড়ীতে এবার বোরো ধানের ভালো ফলনেও কৃষকের মুখে নেই আনন্দের হাসি। কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন দুই উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। তবে এ পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। তারা কৃষকের ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ২৩ এপ্রিল থেকে হাকালুকি হাওরপাড়ের বিভিন্ন ক্ষেতের ধান কেটে দিচ্ছে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ।
২৫ এপ্রিল শনিবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হাকালুকি হাওরের মুর্শিবাদকুরা গ্রামের কৃষক মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ৩ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন। এতে ওই কৃষক ভীষণ খুশি হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তারা বিভিন্ন এলাকার কৃষকের ধান কেটে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকের ধান কেটে দেওয়ায় অনেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
কৃষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আমি গরীব মানুষ। আয় রোজগারও কম। একদিকে করোনা ভাইরাসেরন কারণে শ্রমিক সংকট আর অন্যদিকে বন্যার ভয়ে ছিলাম। যার কারণে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলতে পারব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বিষয়টি
আমার এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতাকে জানাই। পরে তিনি আমার ধান কেটে দেয়ার আশ্বাস দেন। আজ সকালে এসে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা মিলে আমার ধান কাটা শুরু করেন। বিপদের সময় তারা ধান কেটে আমার যে উপকার করেছেন। এজন্য আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে কয়েকদিন থেকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যা হলে কৃষকদের ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এসব কথা চিন্তা করে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা মিলে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা গত ২৩ এপ্রিল থেকে কৃষকের জমির ধান কেটে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদের ধান কেটে দেয়া হবে। তারা এই পরিস্থিতিতে সমাজের সবাইকে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। বিপাকে শ্রমজীবীরা। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জেলায় জেলায় চলছে লকডাউন। বাহিরের জেলার সাথে মৌলভীবাজার জেলার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করা হয়েছে। একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন যাপন চলছে। কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ঘরে বন্দী থেকে তারা এখন অসহায়। এ বন্দীদশা থেকে কবে মিলবে মুক্তি কেউ বলতে পারছে না।
এদিকে জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ ও কলেজ ছাত্রলীগ কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ এপ্রিল হাকালুকি হাওর পারের কৃষক ইউসুফ মিয়ার ২বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন সচেতন মহল। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের উৎসাহ দিতে সেখানে হাজির হন জুড়ী ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিক।
ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে ধান কেটে দেয়ায় কৃষক ইউসুফ মিয়া আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকাধান কাটতে পারছিলাম না। এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক আছে মজুরি বেশি। আকাশের অবস্থা মাঝে মধ্যে খারাপ হচ্ছে। ঝড় হলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ধান কেটে দিতে উদ্যোগ নেয়। ছাত্রলীগের ছেলেরা যেভাবে আমার ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা ভোলার নয়। কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন সাবেল, সম্পাদক ইকবাল ভুইয়া উজ্জ্বল, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশফাক আদনান, সম্পাদক গৌতম দাস জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন মহোদয়ের নির্দেশে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকের ধান কাটার কাজ শুরু করেছি। তারা আরো বলেন, এই করোনা মহামারিতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের পক্ষে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া কষ্টসাধ্য। এজন্য ওইসব কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগামীতেও এধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। যে কোন কৃষক শ্রমিক সংকটে যদি ধান কাটতে না পারেন তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা সেই কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসবো। আর এই কাজের জন্য উপজেলা, কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com