পাড়া গায়ের ছেলে শাহানের জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্প

June 1, 2020,

স্টাফ রিপোর্টার॥ এই গল্পটার পুরোক্র ডিটডিজিটাল বাংলাদেশের। কারণ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সাগরনালের মেধাবী ছাত্র এহসানুল হক শাহান সকল প্রতিবন্ধক তাকে জয় করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায়।

গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেও ২০২০সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫পাওয়া শাহান বলেন, “একমাত্র তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করেই আমি অনেক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে স্বপ ্নছুঁয়েছি।”

শাহান বলেন, “জেএসসিতে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তিও জিপিএ-৫পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেই যে এসএসসিতে আমাকে অবশ্যই জিপিএ-৫পেতে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই পরিকল্পিত ভাবে পড়ালেখা করি।”

“কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করে গ্রামে থাকার কারণে প্রাইভেট পড়ার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক পাইনি। কারণ বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, হাইয়ারম্যাথ এবং ইংরেজির কিছুটা র্মস্সন্তোষ জনক ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে পাইনি। এক পর্যায়ে সিলেট শহরে কোচিং করার জন্য চলে যাই।কিন্তু মা-বাবাকে ছেড়ে সেখানে একা থাকতে কষ্ট হয় তাই কয়েকদিনের মধ্যেই আবার গ্রামের বাড়িতে ফিওে আসি।”

শাহান বলেন, “এক পর্যায়ে আমার ভাইয়া আমাকে ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করে দেন। পওে যখন যেটা বুঝতাম না তখন ইসেটা আমি ইন্টারনেট থেকে সার্চ করে জেনে নিতাম।ইন্টারনেট, গুগল এবং ইউটিউবকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল কারিগরকে ও ধন্যবাদ।”

উল্লেখ্য, এহসানুল হক শাহান জুড়ী উপজেলার সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় ডহর গ্রামে।

শাহানের মা আয়েশ াআক্তার একজন গৃহিনী এবং বাবা হোসাইন আহমদ আজাদ আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।চার ভাই বোনের মধ্যে শাহান সবার ছোট।

২০১৮সালে জেএসসি পরীক্ষায় ও জিপি এ-৫ পেয়ে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পেয়ে ছিলেন এহসানুল হক শাহান। এবার এস এস সি তেএ+ পেয়ে মা-বাবা, ভাইবোন ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ  বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকারা শেদা আক্তার বলেন, “ভালো ফলাফল অর্জন করায় আমরা সবাই খুব খুশি। মূলত ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবক সবার আন্তরিক তার সমন্বয়েই এমন অর্জন সম্ভব হয়।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহমেদ আশরাফ শিপন বলেন, “যারা কৃতকার্য হয়েছে তাদেও সুন্দও আগামীর প্রত্যাশায় থাকলাম। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের এটাই শেষ নয়।কেন না পৃথিবীটা অনেক বড়। অল্পতেই হারলে বামন ভাঙ্গলে চলবে না।”

এহসানুল হক শাহান বলেন, “আল্লাহর রহমতে মা-বাবা, ভাইবোন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা এবং আমার বিদ্যালয়ের প্রাণ প্রয় শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদানে আমি জিপি এ-৫পেয়েছি।”

অবসরে বই পড়া, মুভি দেখা এবং ইউ টিউবে কাজ করতে ভালোবাসেন শাহান। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে ইচ্ছুক শাহান সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com