জুড়ী নদীতে ভাসছে কোরবানির চামড়া, হুমকিতে হাকালুকি হাওর

August 3, 2020,

সাইফুল্লাহ হাসান॥ এবারের কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া নিতে ক্রেতা না আসায় এবং উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় কুরবানির পশুর চামড়া জুড়ী নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে সরেজমিন রোববার ২ আগস্ট বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীতে গিয়ে চামড়া ভাসতে দেখা গেছে। কেউ উন্মুক্ত করে ফেলে রেখেছে, কেউ আবার বস্তাবন্দি করে ফেলেছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন চামড়া কেউ কিনতে না আসায় তারা এমনটা করেছেন।

কথা হয় বেলাগাও এলাকার বাসিন্দা হাবিব চৌধূরীর এর সাথে। তিনি বলেন, আমরা দুই দিন অপেক্ষা করেছি, কেউ চামড়া নিডে আসেনি। ধীরে ধীরে চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সেজন্য নদীতে ফেলে দেই। আমাদের এখানে আবার পুঁতে রাখাও যায় নেই। কারন এলাকা বা বাড়ীর পাশেপাশে শুধু পানি আর পানি।

একদিকে ব্যবসায়ীরা যেমন লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন তেমনি নদীতে চামড়া ফেলার কারণে নদী দূষিত হচ্ছে। আর এই জুড়ী নদীটির পানি যায় হাকালুকি হাওরে সেজন্য পানি মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। নষ্ট হবে হাওরের জীববৈচিত্র্যও।

এই এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদ বলেন, নদীতে ফেলে দেয়ার কারনে নদী দূষিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যে অন্য কোনো উপায় নেই। প্রশাসন থেকেও বর্জ অপসারণের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

পাতিলাসাঙ্গন এলাকার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় চামড়া কিনতে কেউ না কেউ আসতেন। কিন্তু এবার কেউ আসেন নি। আমরা বাধ্য হয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি।

তিনি বলেন, এই এলাকার সকল মানুষই এমন করেছেন। জুড়ী শহরের স্থয়ী বাসিন্দা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, প্রতি বছর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অর্থ যোগাতে বিভিন্ন এতিমখানা, মাদরাসা ও সংগঠন চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে যেত। এবার কেউ নেয়নি। কোনো ক্রেতাও নিতে আসেনি। তাই আমাদের কুরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুতে ফেলেছি।

জুড়ীর ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী শিমুল আহমদ জানান, এবার আমি ৩৪টি বড় গরুর চামড়া কিনে মাত্র ৫ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি করেছি। আগে যেখানে প্রতিটি বড় গরুর চামড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত সেই একই চামড়া বর্তমানে ১শ’ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা যায় না। এরকম চলতে থাকলে আমরা আগামী ঈদে আর চামড়া কিনবো না।

উপজেলার স্থানীয় সংগঠক আশরাফুজ্জামান রিশাদ  বলেন, কুরবানির পশুর চামড়ার দাম না পেয়ে ক্ষোভে চামড়া ব্যবসায়ীবৃন্দ ও বিক্রেতারা পশুর চামড়া জুড়ী নদীতে ফেলে দিয়েছেন। যা জুড়ী নদী ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য নষ্ট এবং মাছের জন্য হুমকি। এ ব্যাপারে স্থানীর প্রশাসনকে তড়িৎ ব্যবস্থা এবং সরকারকে অনুরোধ জানাই যে দেশে চামড়া শিল্পের যে কদর রয়েছে এবং এই চামড়া শিল্প থেকে বিদেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত দাম না পেয়ে যদি চামড়া ব্যবসায়ীরা এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন একদিকে যেমন চামড়া শিল্পের বাজারে ধ্বস নামবে অন্যদিকে নদী, হাওর জলাশয়ে চামড়া ফেলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট এবং পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাড়াবে।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম  বলেন, নদীতে কেউ চামড়া ফেলে দিলেতো আমরা তাদের আটকাতে পারবো না। তাদেরকে বলা হয়েছে এবং সরকারের নির্দেশ ছিলো যে কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পারলে সেটা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে সেসব চামড়া আমরা ক্রয় করবো। এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে চামড়া সঠিক স্থানে প্রেরণ করে উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করে দেয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com