বড়লেখায় বইমেলা : স্থানীয় লেখকদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, উৎসব আমেজ

আব্দুর রব॥ বড়লেখা নজরুল একাডেমি চতুর্থ বারের মত ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপি বইমেলার আয়োজন করেছে। বইমেলায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, স্থানীয় লেখকদের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সরেজমিনে বইমেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই তাদের পছন্দের বই কিনে নিয়ে ফিরছেন। উপস্থিত লেখকদের কাছ থেকে অটোগ্রাফও নিতে দেখা যায়। মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন অনেকে। সারা বেলাই উৎসবের মত পরিস্থিতি ছিল বইমেলায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনই উৎসবের রং ছড়ানো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বইমেলা প্রাঙ্গণে।
সকালে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু। উদ্বোধনী পর্বের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নজরুল একাডেমির সভাপতি বড়লেখা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন নন্দী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। উপজেলা স্কাউটের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবু ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস, সাধারণ সম্পাদক গোপাল দত্ত, কাউন্সিলর রেহান পারভেজ রিপন, উপজেলা স্কাউট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক লিটন শরিফ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা ও বইমেলার সমন্বয়ক জুনেদ রায়হান রিপন। বইমেলা উপলক্ষে জুনেদ রায়হান রিপন ও তপন কুমার দাসের সম্পাদনায় আলোকরেখা নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বইমেলায় মোড়ক উন্মোচন করা হয় প্রেসক্লাব সভাপতি অসিত রঞ্জন দাসের ‘বড়লেখায় বাম রাজনীতি’, দিল আফরোজ আমিনের ‘এপার বাংলার বাবরি মসজিদ’, নজরুল ইসলামের ‘ইলোরা’, অরুন চন্দ্র দাসের ‘শিকার’, গীতাংশু দলপতির ‘সাহারার মাঝে’, মৃণাল কান্তি দাসের ‘হচ্ছি জখম ভীষণ রকম’ ও ‘শিশুতোষ বই ছোট মামার ভূত রহস্য’, কয়েছ আহমদ বকুলের ‘মন জ্যোছনা’, সমীরণ দাসের গানের বই ‘গীত মাধুরী’, প্রদীপ চক্রবর্তীর ‘অপরাজিতার গায়ে সন্ধ্যা’, শাহরিয়ার শাকিবের কয়েকটি ‘সন্ধ্যাতারা’, ফরিদা ইয়াছমিন নার্গিসের ‘সেদিন বসন্তে’, ইকরামুল শামীমের ‘শেখ হাসিনা তোমাকে বলছি’, মাসুম উল্লাহ খন্দকারের ‘কুড়ানো স্বপ্ন’, শুভাশীষ রায়ের ‘হেম রঙ খাম’, মান্না পালের ‘গল্পে গল্পে নীতিশিক্ষা’ ও আজাদুর রহমানের ‘অপ্রিয় অপ্রেমিক’ বইসমূহের। এদিকে বইমেলা উপলক্ষে শিশু-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মঞ্চে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় শিল্পীরা গান, কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। বিকেলে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় বড়লেখা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম (মরণোত্তর), আসম আব্দুল মন্নান (মরণোত্তর), শফিউর রহমান শফিকুর (মরণোত্তর), জহির উদ্দিন (মরণোত্তর) এবং মুক্তিযোদ্ধা ফনি চন্দ্র শীল। এছাড়াও বৃক্ষরোপণের জন্য বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনকে সম্মাননা জানানো হয়েছে।
নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা ও বইমেলার সমন্বয়ক জুনেদ রায়হান রিপন বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমরা বইমেলার আয়োজন করছি। এবার বইমেলা উপলক্ষে আমরা আলোকরেখা নামে একটি সাময়িকী বের করেছি। এতে আমরা বড়লেখার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যাতে ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। আমরা এই বইমেলা ধারাবাহিক চালিয়ে যাবো।



মন্তব্য করুন