বড়লেখায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে বানভাসিদের চরম ভোগান্তির ঈদ

আব্দুর রব॥ হাকালুকি হাওরপাড়ের বড়লেখা উপজেলার ৬ সহ¯্রাধিক বানভাসি মানুষ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রেই চরম ভোগান্তিতে ঈদ পালন করেছেন।
এছাড়া উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা এলাকার প্রায় দেড় লাখ পানিবন্দী মানুষের জীবনে ছিল না ঈদের কোন আমেজ। বানের পানি, ভারিবর্ষণ, সাপ-বিচ্চু আর ঢেউয়ের (আফাল) তোড়ে তাদের এবারের ঈদ ম্লান হয়ে গেছে। এদিকে কিছু বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের দুর্গতরা বসত বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু এরই মাঝে সোমবার রাতের টানা কয়েক ঘন্টার ভারিবর্ষণে ফের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এক মাসের অধিক সময় ধরে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়া দুর্গতরা ৪৮টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
হাকালুকি হাওর পাড়ের মুর্শিবাদকুরা গ্রামের বাসিন্দা নেহারুন বেগম। বন্যায় তার ঘর-দুয়ার সব ভেঙে গেছে। এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় বন্যাআশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। প্রায় এক মাস হতে চলেছে। বন্যার পানি না নামায় নেহারুনের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। তাই তাকে এবার আশ্রয় কেন্দ্রেই নিরানন্দেই ঈদ করতে হয়েছে। এভাবেই রোববার ঈদুল আজহার দিনটি কেটেছে ৪৮ আশ্রয় কেন্দ্রের ৬ সহ¯্রাধিক বানভাসির।
হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় নেহারুন বেগমের সঙ্গে। ঈদ কীভাবে কাটছে জানতে চাইলে অসহায় চাওনিতে বলেন, ‘আমরার ঈদর সব আনন্দ বন্যায় কাড়িয়া নিছেগি। বন্যায় আমরারে একেবারে শেষ করি দিছে। ঘর-দুয়ার সবতা ভাঙিয়া লইয়া গেছে। পরিবার নিয়া আশ্রয় কেন্দ্রে আইজ প্রায় ১ মাস ধরি আছি। খুব কষ্টে দিন যার। আশ্রয় কেন্দ্রে আইছলাম শান্তির লাগি। ইকানো আইয়া মনে অর আমরা অপরাধ করছি।
১২ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে চিন্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কে কেন্দ্রে কথা হয় এখানে আশ্রিত সুজানগর ইউনিয়নের পাটনা গ্রামের সফিক উদ্দিনের স্ত্রী তমিনা বেগমের সাথে। বাশের বেড়ার ঘর বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। প্রায় ১ মাস হয়েছে ছেলে-মেয়ে, ছেলের বউ ও নাতি নাতনি নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন। ঈদের একটা দিন ছিল তা মনেও হয়নি। কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, আর বাড়িতে গিয়ে কোথায় থাকবেন কোন কিছুই বুঝতে পারছেন না।
একই আশ্রয় কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে উঠেছেন জুনেদ আহমদ। ঈদের দিন কীভাবে কাটালেন জানতে চাইলে বলেন, ‘২৮ দিন ধরে আছি আশ্রয় কেন্দ্রে। কাম-কাজ নাই। আশ্রয় কেন্দ্রে আইয়া সরকারি হুখনা (শুকনো) খাবার ও একদিন পরিবেশ মন্ত্রী চাউল-ডাউল অতা দুইদিন পাইছি। আর কেউ আমরার খোঁজ নেয়নি। হাতে টাকাও নাই। পুরান কাপড়, নিজের ঘর ছাড়া স্কুলে আছি। ঈদ কিলা কাটছে আপনারাই বুঝি লাইন।’
ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী জানান, ঈদের দিনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে একটা গরু দেয়া হয়। তা রান্না করে আশ্রয়কেন্দ্রের বন্যার্তদের খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া ৪০০ প্যাকেট খাদ্যদ্রব্য ঈদ উপহার হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়।’



মন্তব্য করুন