ছাত্র পড়িয়ে তিন দশক পার করলেন এক শিক্ষক

September 8, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ ছাত্র পড়িয়েই তিন দশকের বেশি সময় পার করলেন শিক্ষক ঝুলন চক্রবর্তী। আগামী প্রজন্মকে সঠিক মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে তার মেধাকে বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার কালীবাড়ীতে থাকেন। টিউশনির উপার্জিত অর্থ দিয়ে সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিদের সাহায্য সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এলাকায় তিনি ছোটদের ঝুলন স্যার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু করোনাভাইরাসের পর থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ের তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতায় তার এ পেশা চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পানিশালা গ্রামে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ঝুলন চক্রবর্তী। টিউশনি কড়িয়ে এসএসসি, এইচএসসি ও ১৯৯১ সালে বিএসএস করেন। এরপর থেকে ওই এলাকায় ছাত্রদের পড়ানো শুরু করেন। তিনি উপজেলার কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। সংসার জীবনে তিনি স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী রুনা চক্রবর্তী সরকারি চাকুরিজীবী।
শিক্ষকের ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীরা জানায়, তিন দশক ধরে শিক্ষক ঝুলন চক্রবর্তী কোচিং-টিউশনি করে কোনো রকম জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের শুরু থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর এ পেশা চালিয়ে যেতে পারছেন না। শিক্ষক হিসেবে সমাজের শ্রদ্ধার পাত্র হওয়ায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না। শিক্ষা নেওয়া অনেকেই ডাক্তার, ব্যারিস্টার, অধ্যাপক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
এলাকাবাসী জানান, ঝুলন চক্রবর্তী বছরে অন্তত একবার নিজ খরচে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষা সফর করাতেন। তার প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের কাগজ কলম ইত্যাদি নিজ খরচে সরবরাহ করতেন। বয়সের হিসাবে তিনি ৫৪ বছরে পা রেখেছেন। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর এ মহান পেশাটি ধরে রাখতে পারছেন না। তাই তার পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
শিক্ষক ঝুলন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি আমার বাকি জীবনটা ছাত্রদের মাঝে উৎসর্গ করতে চাই। ছাত্ররা আমার প্রাণ। বয়স ও অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তারপরও কিছু ছাত্রদের পড়াচ্ছি। আমি যে এখনো ছাত্রদের মাঝে বেঁচে আছি এটাই আমার আনন্দ। একটি সমাজ কতটা সভ্য হবে সেটা শিক্ষকরাই নির্ধারণ করবেন। শিক্ষকরা যত বেশি মানসম্পন্ন হবেন দেশটা তত বেশি মানসম্পন্ন হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com