নতুন করে মাদকাসক্ত হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার॥ কমলগঞ্জে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ইয়াবা, গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক সেবনে আসক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তীব্রভাবে মাদকাসক্ত হয়। এর মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চিকিৎসার জন্য। শুধু এই বিদ্যালয় নয় উপজেলার বেশ কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজের ছাত্রসহ তরুণ ও যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত হচ্ছে ।
জানা যায়, সীমান্তবর্তী উপজেলা থাকায় খুব সহজেই মাদক কারবারিরা বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ইয়াবা ও গাঁজা সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা হয়। ১৫ থেকে ২৫ বছরের বয়সী কিশোর ও যুবকেরা সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত হচ্ছেন। সব চেয়ে বেশি স্কুল, কলেজের ছাত্ররা রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকে আক্রন্ত হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে কোনোই ভূমিকা রাখছে না। সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা এগুলো গোপন রাখছেন।
শুধু বিদ্যালয় নয় রাতের অন্ধকারে উপজেলার বিভিন্ন বাজার এলাকার বিদ্যালয় মাঠে মাদক সেবন ও কেনা বেচে করা হয় এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিতরে দলবেঁধে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে জানা যায়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের রোগীদের তালিকায় স্কুল-কলেজ পরোয়া ছেলেমেয়ের নাম সবচেয়ে বেশি। মাদকাসক্ত বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েরা ভালো পরিবারের সন্তান। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এর বিস্তার দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে অভিভাবকরা নিজের সন্তানকে ঠিক মতো গাইড না দেওয়ার কারণে মাদকাসক্ত হচ্ছে। অভিভাবকরা এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
মাদকাসক্ত কয়েকজন স্কুল ছাত্রের অভিভাবক বলেন, আমাদের অজান্তেই আস্তে আস্তে মাদক সেবনে আসক্ত হয় আমাদের ছেলেরা। কোন ভাবেই ফিরিয়ে আনতে পারছিনা। বাধ্য হয়ে আত্মীয়র বাড়িতে দিয়েছি।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের নিরবতার কারণে মাদক কারবারিরা প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রি করছে। এভাবে চলতে থাকলে স্কুল শিক্ষার্থীরা দিনদিন মাদকের দিকে দাপিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ উপজেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কম-বেশি সব বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থীরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত আছে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব মাদক সম্পর্কে সচেতন করা হয়। কিন্তু পারিবারিকভাবে তাদেরকে কোন শাসন করা হয়না। যারা মাদক সেবন করে এরা খুব কম বিদ্যালয়ে আসে। পরিবারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তারা তা বিশ্বাস করতে চায়না। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজারগুলোতে অহরহ বিক্রি করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য।’
কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখানে মুল পরীক্ষার কেন্দ্র। ৭টি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে এসে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার শুরু থেকে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চিতলীয়া জনকল্যান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা দোকানে এসে প্রতিদিন সিগারেট চাইতো, নাই বললে জিঞ্জাস করতো কোথায় পাওয়া যাবে পরে থানার সামনে গেলে পাবে এই কথা বলে বিদায় করতাম, এদিকে তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের জিঞ্জাস করতাম তুমরা সিগারেট কেন খাচ্ছো তখন তারা বলতো আমাদের বাবার টাকা সিগারেট খাচ্ছি আপনার সমস্যা কি? এভাবে উত্তর দিয়ে ছাত্ররা চলে যেত’।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ হাবীব তৌহিদ ইমাম বলেন, ‘স্কুলের কি পরিমাণ ছাত্ররা মাদকাসক্ত হচ্ছে এর কোন নিদিষ্ট তথ্য নেই। আমাদের কাছে মাদকের তথ্য আসলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অভিভাবকদেরকে আরও সচেতন হতে হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন,‘মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক ক্যামপেইন স্কুল পর্যায়ে করা হবে।



মন্তব্য করুন