কমলগঞ্জে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ১৭ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ, শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে ৫ মৃ/ত্যুর অভিযোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা টানা ১৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ডানকান ব্রাদার্সের আওতাধীন বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় চা শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে অন্তত ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, ২৬ মার্চ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ একদল লোক হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, দ্রুত হাসপাতাল চালু করা না হলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরীও হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমিক পরিবারগুলো।
শ্রমিক নেতাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি মারা যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন, আলীনগর চা বাগানের রাজ দেও কৈরী (৫৮), কানিহাটি চা বাগানের লক্ষী মনি তেলি (৮০) ও মাধুরী সাহা (৪০), চাতলাপুর চা বাগানের রুমি ভড় (২৩) এবং পালকি ছড়া চা বাগানের মাধুরী ভড় (৫৫)। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালটি চালু থাকলে তারা অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারতেন।
আলীনগর চা বাগানের চন্দ্র দেও কৈরী বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থতায় মারা গেছে, কিন্তু অন্তত সাধারণ চিকিৎসাটুকু পেলে হয়তো বাঁচতে পারতো। একইভাবে কানিহাটি চা বাগানের মহা দেও কৈরী অভিযোগ করেন, ভালো চিকিৎসার অভাবে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল থাকলেও তা বন্ধ কেন থাকবে?
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে নাকি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এ নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।



মন্তব্য করুন