পরনিন্দা, গীবত ও দ্বিমুখী আচরণ: ইসলামের দৃষ্টিতে এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি

June 6, 2026,

বশির আহমদ : বর্তমান সমাজে একটি বড় নৈতিক সমস্যা হলো,কারো সামনে তার প্রশংসা করা, সুন্দর ব্যবহার করা; কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে সমালোচনা, দোষচর্চা বা বিরূপ মন্তব্য করা। ইসলামে এ ধরনের আচরণকে গীবত ও দ্বিমুখী স্বভাব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ইসলাম মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও আন্তরিকতার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন অন্য মুমিনের কল্যাণকামী হবে। কারো ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে তা সবার সামনে নয়, বরং একান্তে ও সুন্দরভাবে তাকে জানানোই ইসলামের শিক্ষা।

পবিত্র কুরআনে গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করে এর ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষের কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, সেটাই গীবত। আর যদি সেই দোষ তার মধ্যে না থাকে, তবে তা অপবাদ।

দ্বিমুখী আচরণও ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দিত। এক ব্যক্তির সামনে এক কথা এবং পেছনে আরেক কথা বলা মুনাফিকসুলভ স্বভাবের পরিচয়। একজন সত্যিকারের মুমিন মানুষের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই তার সম্মান ও কল্যাণ রক্ষা করে।

তাই আমাদের উচিত-গীবত, পরনিন্দা ও কুৎসা রটনা থেকে বিরত থাকা। অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের সংশোধনে মনোযোগ দেওয়া। কারো ভুল দেখলে গোপনে ও সদুপদেশের মাধ্যমে জানানো। মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।  দ্বিমুখী আচরণ পরিহার করে সত্যবাদী ও আন্তরিক হওয়া।

মনে রাখতে হবে, গীবত ও দ্বিমুখী আচরণ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। আর আন্তরিকতা, সত্যবাদিতা ও পারস্পরিক সম্মান একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে গীবত, পরনিন্দা ও দ্বিমুখী আচরণ থেকে হেফাজত করুন এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন।-আমীন।

লেখক : বশির আহমদ, মৌলভীবাজার সদর।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com