কমলগঞ্জের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ৫ দিন আটকে দল*বদ্ধ ধ*র্ষণের অভিযোগ, গ্রে*প্তার ৩

September 22, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : প্রেমের ফাঁদে ফেলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে পাঁচ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধ/র্ষ/ণ ও নি/র্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। টানা নির্যাতনে গুরুতর অসু/স্থ হয়ে পড়ার পর তাকে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মা/মলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রে/প্তার করেছে। মামলার অপর এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত মো. জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে ওই ছাত্রীর পরিচয় ও কথিত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে রাজনগর উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ এলাকায় আসামি জুবেল মিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত জাহেদের বাড়িতে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। টানা নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিনের নির্দেশনায় এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পরে ২১ সেপ্টেম্বর ভোররাতে পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং একই উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি রাজনগর হাসপাতাল এলাকার কবির (৩০) এখনো পলাতক রয়েছেন।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com